সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে। একজন নির্দোষ লোককে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রাণভিক্ষা চাননি। তার বিরুদ্ধে রায়কে ‘মিস ট্রায়াল’ হিসাবে উল্লেখ করে পুনরায় ট্রায়ালের জন্য প্রেসিডেন্টের নিকট আবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নগরীর গুডস হিলস্থ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাকে হত্যার পূর্বে পরিবারের সদস্যগণ দেখা করতে গেলে যে সকল কথা জানিয়ে ছিলেন তা তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, তিনি বলেছেন তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ হলেও চট্টগ্রামের ছেলে। প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা মানুষটি কারো কাছে মাথা নত করতে পারে না। তোমাদের কি বিশ্বাস হয়- আমি মাথা নত করতে পারি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী শুধু রাব্বুল আলামিনের কাছে মাথা নত করতে পারে। কোনো ব্যক্তির কাছে নয়। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্দোষ ব্যক্তি বলতে পারে না ক্ষমা করে দাও। তার বাবা বলেছেন- এ সরকার তাকে মেরে ফেলার পর কত নাটক করবে। কত কাগজ উপস্থাপন করবে। তোমরা তা দেখতে পারবে।
হুম্মাম কাদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে এটি টপ সিক্রেট। ওই কাগজ নিয়ে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। তাদের বাবা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে সরকার বেশি দিন বোকা বানিয়ে রাখতে পারবে না। উনি চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ৩৩ বছর চট্টগ্রামের রাজনীতি করেছি। যে ভালোবাসা ও সম্মান চট্টগ্রামের জনগণ দিয়েছেন তার জন্য সম্ভব হলে কলিজাটা দিয়ে দিতাম। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, তার দাফন ও জানাজায় চট্টগ্রামবাসীর উপস্থিতি তার প্রমাণ করে।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ৯৭ সালে রাঙ্গুনিয়ায় নির্বাচন করার সময় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে তিনি জনসভায় বলেছিলেন, আমার বাড়ি পার্শ্ববর্তী রাউজান হলেও আমার মৃত্যুর পর যেন রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেয়া হয়। তার শেষ ইচ্ছার ব্যাপারে জেল সুপার নেসার আহমদকেও বলেছিলেন; কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিল না সরকার। হুম্মাম কাদের বলেন, বাবার ইন্সট্রাকশন ছিল মিথ্যা ট্রায়ালকে মিস ট্রায়াল হিসেবে দেখা হউক। হুম্মাম কাদের কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বাবাকে হারিয়েছি। দেশ একটা বড় সম্পদ হারিয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিপ্লেসমেন্ট হবে না। একদিন প্রমাণিত হবে- সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন। হুম্মাম কাদের বলেন, পরিবারের সদস্যদের দেখে তিনি তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বলেছেন, আজকেই মেরে ফেলবে। জানতাম এরকমই ঘটাবে।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী বলেছেন, তিনি হাসতে হাসতে জেলারকে বলেছিলেন, আমাকে তোমরা আজ মেরে ফেলবা। কই আমার দাফনের কাপড়। আমার গোসলের ব্যবস্থা করেছ। রাঙ্গুনিয়ায় কিন্তু দাফন করতে হবে। নেসার সাহেব সবকিছু সায় দিচ্ছিলেন। ফারহাত কাদের বলেন, তিনি হাসি মুখে সব বলেছেন, তিনি ভুল করেননি। অপরাধ করেননি।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দুইজন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাই সবসময় চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সরকারের জুলুম নির্যাতন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাই তাকে মিস ট্রায়ালের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বড় ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী ফাইয়াজ, মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী, বড় ছেলের স্ত্রী তানিয়া কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যগণ। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান উপস্থিত ছিলেন।