ভালো কাজের খবর কেউ রাখে না

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৫, ০০:৩৭

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বহুদিন ধরে বিনামূল্যে ব্যয়বহুল থোরাসিক সার্জারি হচ্ছে। এতে করে ফুসফুস ও খাদ্যনালী ক্যান্সারের মত জটিল রোগে আক্রান্ত শত শত দরিদ্র রোগী উপকৃত হচ্ছে। তবে এসব ভালো কাজের খবর কেউ রাখে না বলে আক্ষেপ করেছেন থোরাসিক সার্জন। 

 
বুকের হাড়ভাঙ্গা কিংবা যেকোন আঘাত, টিউমার, টিবি, মাথা কিংবা শরীরের যেকোন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে থোরাসিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে ক্যান্সারের মধ্যে তালিকায় প্রথম ফুসফুসের ক্যান্সার। খাদ্যনালীর ক্যান্সার এই তালিকায় পঞ্চম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের যে কোনো স্থানে ক্যান্সার হলে অবশ্যই পরবর্তীতে ফুসফুস আক্রান্ত হবে।
 
থোরাসিক সার্জারি অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিত্সা। মধ্যবিত্তের পক্ষেও এই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। সরকারিভাবে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এই ধরনের চিকিত্সা হয়। এছাড়া বুকের সকল রোগের চিকিত্সাও এখানে হয়। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে কয়েকশ’ সংকটাপন্ন রোগী এখানে আসে। এটি বক্ষব্যাধির একমাত্র বিশেষায়িত চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান।
 
তবে এখানে চাহিদার তুলনায় বেড, জনবল সীমিত। সারাদেশের বুকের সকল রোগী চিকিত্সার জন্য এখানে আসে। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিত্সা। বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বাইরে সরকারিভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০১০ সালে থোরাসিক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়। গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবার উদ্দেশ্যেই এই বিভাগ চালু করা হয়। জানা গেছে, দেশে বেসরকারি হাসপাতালে এই থোরাসিক সার্জারির ব্যয় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। দরিদ্র রোগীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উপকৃত হচ্ছে।  কেবল চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত এখানে ২৫০ জন রোগীর অপারেশন হয়েছে। চিকিত্সা নিয়েছেন কয়েক হাজার রোগী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের থোরাসিক সার্জারি বিভাগে ২৪টি বেড রয়েছে। একটিমাত্র ইউনিটে থোরাসিক সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুল আলমের নেতৃত্বে কাজ  চলছে।
 
অধ্যাপক ডা. কামরুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নীরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। করিডোরে বসেও আমরা সেবা দিচ্ছি। তবে আমাদের খোঁজ কেউ রাখে না। কেবল নেতিবাচক খবর আসে পত্রিকায়, ভালো কাজের খবর আসে না। সপ্তাহে ৩ দিন অপারেশন চলে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাইরে কেবল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই বিভাগ চালু করা হয়। তবে এখন জনবলের অভাবে চিকিত্সাসেবা বন্ধ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর উদাসীন। থোরাসিক বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।
 
দেশে প্রায় ৩০ জন থোরাসিক সার্জন রয়েছেন। সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থোরাসিক সার্জারি বিভাগ চালু করা গেলে হাতের কাছে এই জটিল রোগের চিকিত্সা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে শিখতে পারবে।
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে একটি অত্যাধুনিক চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নও করা হবে।
 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, থোরাসিক সার্জারি চিকিত্সায় শুধু দরিদ্র রোগী উপকৃত হবে তা নয়, মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরাও সুশিক্ষা পাবেন। চিকিত্সা-শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে থোরাসিক সার্জারি সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।