ভিন্নচোখে ডেস্ক
চিরচেনা ধূসর কাঁচাপাকা কোঁকড়া চুল, চুলে দুটি গোলাপ ফুলের ক্লিপ। মুখভরা বেশ লাজুক মিষ্টি হাসি সব মিলিয়ে সেই চিরচেনা বেশে হাজির অরুন্ধতী রায়। দ্য গড অব স্মল থিংস বইয়ের নামের সঙ্গে যে নামটি জড়িত তিনিই সে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব দ্য অ্যাটমোস্ট হ্যাপিনেস’ উপন্যাসটিও পাঠক মনে বেশ ঝড় তোলে।
অরুন্ধতী রায়ের পুরো নাম সুজান্না অরুন্ধতী রায়। ১৯৬১ সালের ২৪ নভেম্বর আসামের শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা রঞ্জিত রায় ছিলেন বাঙালি হিন্দু এবং মা সিরিয়ান খ্রিস্টান ম্যারি রায় নারী অধিকার কর্মী ছিলেন। কেরালার আয়মানাম এলাকায় শৈশবকাল অতিক্রান্ত করেন অরুন্ধতী রায়।
দ্য গড অব স্মল থিংস বইটিতে মূলত অরুন্ধতীর ছোটবেলার গল্পগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। এসেছে অনেক ছোট ছোট স্মৃতিকথা। শুধু লেখালেখির জগতেই নয়, সিনেমার জগতেও খানিকটা পরিচিত মুখই অরুন্ধতী রায়।
অরুন্ধতী শুধু একজন লেখক নন, তিনি সামাজিক অ্যাক্টিভিস্টও। তার কর্মজীবনের প্রথম দিকে টেলিভিশন এবং চলচিত্রের জন্য কাজ করেছেন। তিনি ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ইলেক্ট্রিক মুন এবং ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোস ওয়ান্সের জন্য চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। দ্বিতীয়টি স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রের জন্য সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেন তিনি।
দ্য গড অব স্মল থিংস বইটির জন্য তিনি বুকার পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৪ সালে সিডনি পিস প্রাইজও অর্জন করেন তিনি। অবদমিত মানুষদের জন্য খোলাখুলি কথা বলার জন্য ২০০২ সালে লান্নান কালচারার ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেন তিনি। ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অব লেটার্সের পক্ষ থেকে ২০০৬ সালে পান সাহিত্য একাডেমি অ্যাওয়ার্ড। পরবর্তী সময়ে ভারতে সামাজিক ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে নিজের এই পুরস্কার ফিরিয়ে দেন তিনি।
