‘ঢাকার জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হবে ১১ হাজার কোটি টাকা’

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৫, ০০:০৮

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার জলাবদ্ধতার ফলে ২০১৪ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত প্রায় ১১০ বিলিয়ন টাকা বা ১১ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে তীব্র বৃষ্টিপাত হলে এ ক্ষতির পরিমাণ ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। ঢাকার বন্যা এবং জলাবদ্ধতা নিয়মিত জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ঢাকা নিচু অঞ্চল এবং বস্তি এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি, অতিবৃষ্টিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামীর দশকগুলোতে এ সমস্যা আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় বৃহত্তর ঢাকার জন্য প্রয়োজন আধুুনিক নীতি এবং বড় বিনিয়োগ।

 
বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিভাবে প্রকাশ করা হয়। ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের পরিবেশ অর্থনীতিবিদ সুস্মিতা দাসগুপ্ত। অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত উপস্থিত ছিলেন। 
 
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ষাকালে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে বছরে ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা প্রয়োজন। এ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হলে বর্ষাকালে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ১২ ঘন্টা পাইপ লাইনের মাধ্যমে জমে থাকা পানি নিষ্কাষণ করা সম্ভব হবে। একইসাথে একটি মাস্টার প্লানের আওতায় ঢাকার নর্দমা ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে এ অবস্থার উন্নতি করতে ব্যয়ের পরিমাণ ১৩০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করতে হবে।
 
মেয়র আনিসুল হক বলেন, ঢাকা শহরে ৫৬ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। আর মেয়র এসব প্রতিষ্ঠানের চিফ ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। মেয়র হিসেবে আমার ঝাড়ু দেয়া আর কিছু ফুলটুল লাগানো ছাড়া কোন কাজ নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি একজন মেয়র কিন্তু ঢাকার কোন খালের উপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রভাবশালীদের কারণে ঢাকা শহরের সব খাল-ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল ও অবৈধ জমির বিষয়ে উচ্চ আদালতে প্রভাবশালীদের রিট মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়র আসে, মেয়র যায় কিন্তু কোর্টে কেস শেষ হয় না। খাল-নদী-জায়গা দখলমুক্ত করা হলে সবাই হাইকোর্টে যায় এবং সুবিধা নেয়। ফলে মেয়রের পক্ষে কিছু করার থাকে না। ঢাকার অবৈধ বিল বোর্ড উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে ২০ হাজার বিলবোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করছি কিন্তু এ কাজটি করা অনেক কঠিন। কারণ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সিভিল এভিয়েশনের বিলবোর্ডও রয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে মেয়র হিসেবে তার কাজের ফল দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
 
প্রতিবেদন নিয়ে উপস্থাপনায় জানানো হয়, ঢাকায় একসময় ৪৩টি প্রাকৃতিক খাল ছিল, যার ১৭টির অস্তিত্ব এখন আর নেই। বর্তমানে ২৬টির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ঢাকা ওয়াসার হাতে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী ঢাকার উপর চাপ বাড়ছেই। এজন্য যানবাহন সমস্যা, আবাসন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশনসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা নাগরিক জীবনকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করছে। তবে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সমস্যা নগরীর সকল স্থানে সমান নয়।
 
প্রতিবেদন বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিনা ই কাইমস উল্লেখ করেছেন, নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নগরায়নের চাহিদা অনুযায়ী মেগা সিটি ঢাকার জন্য প্রয়োজন ‘স্মার্ট’ বিনিয়োগ। 
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যেতে পারে সুশাসনের উন্নতির মাধ্যমে, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন এবং জলবায়ুর ঝুঁকি অভিযোজনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে।