জানাযায় লাখো মানুষের ঢল, সর্বত্র শোকের ছায়া

সীতাকুণ্ডের নক্ষত্র সাংসদ কাশেমের জানাযা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:২১
 
সীতাকুণ্ডের নক্ষত্র চট্টগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব এ বি এম আবুল কাশেম মাস্টার (৭৫) এর জানাযায় লাখো মানুষের ঢল এবং সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
 
গত বুধবার ঢাকা থেকে হেলিকাপ্টারে মরহুমের লাশ চট্টগ্রাম বিএম এ নিয়ে আসার পর বিকাল ৩ টায় সীতাকুণ্ড পৌরসদরস্থ সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আলহাজ্ব মাওলানা হোসাইন আহম্মদের ইমামতিতে লাখো জনতাকে নিয়ে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
 
জানাযা নামাজের পূর্বে বক্তারা বলেন, তিনি সীতাকুণ্ডবাসীর মাটি ও মানুষের নক্ষত্র হিসাবে ছিলেন এবং জাতীয় সংসদের ২ বার নির্বাচিত সাংসদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। তাঁর বড় ছেলে আলহাজ্ব এস এম আল মামুন সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তরজেলা যুবলীগের সভাপতি। ১৯৪০ সালে জন্ম নেয়া এই গুণী ব্যক্তির জন্ম সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামে। পিতার নাম মরহুম আব্দুল জলিল, মাতার নাম মরহুমা আমেনা বেগম। চট্টগ্রামের কাট্টলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হয় জীবনযাত্রা। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ঐ সময় চট্টগ্রাম জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ছিলেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনসহ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।
 
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রটি ছলিমপুর ওয়ারলেস সেন্টারে আসলে অপারেটর আব্দুর গাফফারের সহযোগিতায় সাবেক মন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী ও জহুর আহম্মদ চৌধুরীর নিকট হস্তান্তর করেন। ১৯৭৫ সালে সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের তিনি হাল ধরেন। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ২ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ঐ সময় স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সফলভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
২০০৮ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তির সীতাকুণ্ডের ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।
 
জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত আলহাজ্ব মো. নুরুল আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস ছালাম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আক্তার, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব দিদারুল আলম দিদার, উত্তর জেলা জাতীয় পার্টি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব দিদারুল কবির দিদার, উপজেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইসহাক, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূইয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগ সভাপতি আলহাজ্ব এস এম আল মামুন, পৌরসভা মেয়র নায়েক অব. শফিউল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. গোলাম রব্বানি, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মজিবুল হক, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতি সভাপতি ও বারৈয়াঢালা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেহান উদ্দিন রেহান, মরহুমের ছোট ভাই বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মো. নাসির উদ্দিন সিআইপি ও মরহুমের ভাতিজা বিশিষ্ট শিল্পপতি এস এম তানভির, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ সর্বস্তরের জনগণ জানাযায় অংশ গ্রহন করেন।