দ্বিতীয় টেস্ট
স্পোর্টস রিপোর্টার
টানা দুইদিন বৃষ্টির দাপটের পর ওয়েলিংটনে দেখা মিলেছে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের। বেসিন রিজার্ভের সবুজ গালিচায় গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিনেও বৃষ্টি হানা দিয়েছিল। গোটা দিনে খেলা হয়েছে ৭২.৪ ওভার। যেখানে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের শর্ট বলের বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন ভেঙে পড়ার পুরনো দৃশ্যই আবার মঞ্চায়িত হয়েছে ওয়েলিংটনে। গতকাল তামিম ইকবালের হাফ সেঞ্চুরিতে ভালো শুরুর পরও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২১১ রানে।
ব্যাটিংয়ের ধসের নিয়মিত চিত্রের কারণেই তিনদিন আয়ু পাওয়া ওয়েলিংটন টেস্টেও হারের শঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ শিবিরকে ঘিরে। দুই সেশনে বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার পর আবু জায়েদ রাহীর বোলিংয়ে ৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টি নামার আগে দুই উইকেটে ৩৮ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ১০, রস টেইলর ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।
সবুজ উইকেটে টসভাগ্য বাংলাদেশের হয়ে কথা বলেনি। তাই তো আগে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জটাই সঙ্গী হয় সফরকারীদের। পাঁচ পেসার লেলিয়ে দিয়ে কন্ডিশনের পূর্ণ ফায়দা নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। যদিও শুরুর কম্পমান সুইং, মুভমেন্টের সময়টা ভালোভাবেই কাটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম-সাদমানের ওপেনিং জুটি টানা তৃতীয় ইনিংসে অর্ধশত রান এসেছিল। ইনিংসের ২১তম ওভারে গ্র্যান্ডহোমের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন সাদমান। তিনি ২৭ রান করেন। তারপরই ওয়াগনারের ছোবলে দিক হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন।
মুমিনুল (১৫), মিঠুন (৩) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ সেঞ্চুরি করা তামিম ছিলেন ভরসা হয়ে। কিন্তু তাকে থামিয়ে দেন ওয়াগনার। ১০টি চারে ৭৪ রান করেন তামিম। তার বিদায়ে ১৩৪ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পর সৌম্য (২০), মাহমুদউল্লাহও (১৩) স্থায়ী হতে পারেননি উইকেটে। তারা দুজন কম সময়ের ব্যবধানে ফিরলে ১৬৮ রানেই ছয় উইকেটের পতন হয়।
লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই করেছিলেন লিটন দাস। কিন্তু চা বিরতির আগে বোল্টের বোলিং তোপে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। দলীয় ২০৬ রানে তাইজুল (৮), মুস্তাফিজ (০) ফিরেন বোল্টের শিকার হয়ে। ২০৭ রানে সাউদির বলে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। তিনি ৩৩ রান করেন। পরে বোল্টের বলে বোল্ড হওয়ার আগে আবু জায়েদ রাহী ৪ রান করেন।
হ্যামিল্টনের মতোই শর্ট বলের পরিকল্পনা সফল ওয়াগনার। ২৮ রানে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। বোল্ট ৩৮ রানে তিনটি উইকেট পান। নিউজিল্যান্ডের বাকি পেসাররাও উইকেটশূন্য ছিলেন না। সাউদি, গ্র্যান্ডহোম, হেনরি একটি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলিংয়ে দুটি উইকেট তুলে নেওয়াই কিছুটা স্বস্তির অনুষঙ্গ হয়েছে মাহমুদউল্লাহদের জন্য। নতুন বলে দুই প্রান্তে নিউজিল্যান্ডের ওপেনারদের কঠিন সময় উপহার দিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেন। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থের সুফলটাও পেয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে রাহীর বলে ল্যাথাম (৪) ক্যাচ দেন উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। নবম ওভারে জিত রাভালও (৩) রাহীর শিকার হন। ৮ রানে দুই উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডকে পরে আর বেশি সময় ব্যাটিং করতে হয়নি বৃষ্টির কারণে। রাহী ১৮ রানে দুই উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ে রান কম হওয়ায় ম্যাচ বাঁচাতে এখন বোলাররাই বাংলাদেশের মূল ভরসা। আবহাওয়ার বৈরিতার বাইরে আজ রাহী-মুস্তাফিজরা বোলিংয়ের উপরই ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করছে।
স্কোর কার্ড : (তৃতীয় দিন শেষে)
ভেন্যু: বেসিন রিজার্ভ, ওয়েলিংটন
টস: নিউজিল্যান্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : রান বল চার ছক্কা
তামিম ইকবাল ক সাউদি ব ওয়াগনার ৭৪ ১১৪ ১০ ০
সাদমান ইসলাম ক টেইলর ব গ্র্যান্ডহোম ২৭ ৫৩ ৪ ০
মুমিনুল হক ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ১৫ ৩৮ ২ ০
মোহাম্মদ মিথুন ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ৩ ১০ ০ ০
সৌম্য সরকার ক ওয়াটলিং ব হেনরি ২০ ২৪ ২ ১
মাহমুদউল্লাহ ক গ্র্যান্ডহোম ব ওয়াগনার ১৩ ৩৫ ২ ০
লিটন দাস ক উইলিয়ামসন ব সাউদি ৩৩ ৪৯ ৬ ০
তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লু ব বোল্ট ৮ ৩৫ ১ ০
মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড ব বোল্ট ০ ২ ০ ০
আবু জায়েদ বোল্ড ব বোল্ট ৪ ৬ ১ ০
এবাদত হোসেন অপরাজিত ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-৭, নো-১, ও-২) ১৪
মোট (অলআউট, ৬১ ওভার) ২১১
উইকেট পতন :১/৭৫ (সাদমান), ২/১১৯ (মুমিনুল), ৩/১২৭ (মিথুন), ৪/১৩৪ (তামিম), ৫/১৫২ (সৌম্য), ৬/১৬৮ (মাহমুদউল্লাহ), ৭/২০৬ (তাইজুল), ৮/২০৬ (মুস্তাফিজ), ৯/২০৭ (লিটন), ১০/২১১ (আবু জায়েদ)।
নিউজিল্যান্ড বোলিং :ট্রেন্ট বোল্ট : ১১-৩-৩৮-৩, টিম সাউদি : ১৫-২-৫২-১ (ও-২, নো-১), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম : ৭-০-১৫-১, ম্যাট হেনরি : ১৫-০-৬৭-১, নিল ওয়াগনার : ১৩-৪-২৮-৪।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : রান বল চার ছক্কা
জিত রাভাল ক সৌম্য ব আবু জায়েদ ৩ ২৪ ০ ০
টম লাথাম ক লিটন ব আবু জায়েদ ৪ ১৬ ১ ০
কেন উইলিয়ামসন ব্যাটিং ১০ ১৭ ২ ০
রস টেইলর ব্যাটিং ১৯ ১৩ ৪ ০
অতিরিক্ত (লে বা-২) ২
মোট (২ উইকেট, ১১.৪ ওভার) ৩৮
উইকেট পতন :১/৫ (লাথাম), ২/৮ (রাভাল)
বাংলাদেশ বোলিং :আবু জায়েদ রাহি : ৬-২-১৮-২, এবাদত হোসেন ৫.৪-২-১৮-০।
