এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও স্থানীয় দৈনিক সানশাইনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইউনুছ আলীসহ রাজশাহীর আট বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উড়োচিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি-সংগঠন আনসার আল ইসলাম। ওই সংগঠনটির প্যাডে এই হত্যার হুমকি দেয়া দেয়া হয়।
সোমবার সকালে ডাকযোগে চিঠিটি দৈনিক সানশাইনের পত্রিকার কার্যালয়ে পৌঁছায়। একই ধরনের চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়েও পৌঁছেছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সিজাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই চিঠিটি আনসার আল ইসলামের নয় বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও যাদের হুমকি দেওয়া হয়, তারা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহার, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হায়াত, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
চিঠির নিচে আনসার আল ইসলাম (আল-কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ) প্রধান হিসেবে মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ ও রাজশাহী অঞ্চলের স্থানীয় প্রধান নির্দেশক হিসেবে রাজশাহী কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক হবিবুর রহমান নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও চিঠির খামে প্রেরক হিসেবে অধ্যাপক আবু সিদ্দিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
চিঠির প্রথমে লেখা হয়েছে, ‘রাজশাহী শহরে আমাদের টার্গেটসমূহ’। এরপর লেখা হয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের বাংলাদেশ শাখার উপশাখা রাজশাহী অঞ্চলে আমাদের কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা রাজশাহী অঞ্চলে আল্লাহ, রাসূল ও মুসলমানের নিকৃষ্টতম দুশমনদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছি। আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীন প্রতিষ্ঠায় এদের প্রত্যেককে হত্যা করা হবে।
এরপর চিঠিতে আট বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। শেষে ‘মূলকথা’শিরোনাম করে লেখা হয় আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীনের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন এবং আল্লাহ নয়, অন্য কারো কাছে নত স্বীকার করেছে তারা আমাদের টার্গেট। সাধারণ কোনো মুসলমান আমাদের টার্গেট নয়। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত তালিকায় অনেকের নাম আসেনি, তাই বলে ইসলামের দুশমনরা ছাড় পাবেন এমন না। আল্লাহর মুজাহিদগণ আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীন প্রতিষ্ঠায় বাধা দানকারী, কটাক্ষকারী সবাইকে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।’
স্বাক্ষর ছাড়াই নামযুক্ত থাকার বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ফেক। তাকে বেকায়দায় ফেলতে কোনো চক্র তার নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে।’
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহার জানান, তিনি এ ধরনের কোনো চিঠি এখনো পাননি। তবে যারা চিঠি পেয়েছেন তারা প্রশাসনকে জানালে বিষয়টি তদন্ত করে উৎস বের করা হবে।
