মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
মুলাদীতে চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমদের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে অবিলম্বে অধ্যক্ষের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীর হাতে দুই শিক্ষকের মারধরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মাদ্রাসার কৃষিশিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মাহে আলম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমদ ও তার সহযোগী একই মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখার ইন্সট্রাক্টর গোলাম রসুল তাকে ও বিজ্ঞান শিক্ষক সাইদুল ইসলামকে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ক্লাস বর্জন করে অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমদ ও তার সহযোগীকে অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তাত্ক্ষণিক মিছিল বের করলে অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ও বোয়ালিয়া ফাঁড়ি পুলিশ মাদ্রাসায় পৌঁছে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর পরই মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী মাদ্রাসায় পৌঁছে এবং সোমবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসার গভর্নিং বডির জরুরি সভা আহ্বান করেন এবং ওই সভায় দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস করবে না ঘোষণা দিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমদ শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ক্লাস নেওয়ার জের ধরে দুই শিক্ষকের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়েছে।
