তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
তালায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ক্রসড্যাম স্থাপন ও পাখিমারা টিআরএম বিল ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার উত্তরণ ও তালা উপজেলা পানি কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তালা উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. ময়নুল ইসলাম। উত্তরণের প্রকল্প পরিচালক জাহিন শামস সাক্ষরের সঞ্চালনায় এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে পানি কমিটির সভাপতি মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকল্পে বাংলাদেশ সরকার বিগত ২০১১ সালে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পে (১ম পর্যায়)’ মূলত দুইটি কাজ বাস্তবায়ন করে। যার মধ্যে পাখিমারা বিলে টিআরএম স্থাপন এবং অন্যটি ৯০ কি.মি. নদী খনন করা হয়। পলি ব্যবস্থাপনার আওতায় খননকৃত নদী রক্ষার কৌশল হিসেবে টিআরএম চলাকালে মূল নদের উপর ক্রসড্যাম দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে জোয়ারবাহিত পলি উপরাংশে না ঢুকিয়ে টিআরএম বিলে প্রবেশ করানো হয় এবং বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পুনরায় ক্রসড্যাম তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, নদী রক্ষায় পলি ব্যবস্থাপনার আওতায় ক্রসড্যাম স্থাপন একটি নিয়মিত কার্যক্রম; কিন্তু এ বছর পলি মৌসুমের অনেক আগেই নদীতে পলির আগমন ঘটেছে এবং প্রচুর পরিমাণে পলি টিআরএম এর উজান অংশে প্রবেশ করে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অর্থাত্ শুষ্ক মৌসুমের শুরুর এই সময়ে নদীতে ক্রসড্যাম না দিলে নদীকে রক্ষা করা যাবে না।
পানি কমিটির সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ২০২১ সাল পর্যন্ত টিআরএম চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেজন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উত্তরণ ও পানি কমিটি যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনে জোরালোভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যে পাখিমারা টিআরএম বিলের বালিয়া কাটপয়েন্টে নদীর উজানমুখে ক্রসড্যাম স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করা, প্রকল্প সফলতার জন্য পাখিমারা টিআরএম বিলের সুষ্ঠু বিল ব্যবস্থাপনা দ্রুত কার্যকর করা, অতি দ্রুত কপোতাক্ষ নদের ২য় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করা এবং গুরুত্ব প্রদান করে ভবিষ্যতে নদী রক্ষার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে অর্থাত্ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি বছর নদীতে ক্রসড্যাম স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করা এবং যথাসময়ে তা অপসারণ করার দাবি জানান।
