ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা
ধুনট উপজেলায় সুবললতা জাতের উচ্চ ফলনশীল ভেজাল বোরো ধানবীজ চাষ করে শতাধিক কৃষক প্রতারণার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সরুগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খৈয়ব আলী মণ্ডল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
প্রতি বিঘায় ২৫-২৮ মণ ধান উত্পাদনের প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের কাছে এই ধানের বীজ বিক্রি করা হলেও একমুঠো ধানও ঘরে উঠার আশা নেই। জমিতে চারা রোপণের পর ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে ধান গাছ। উপজেলার কান্তনগর বাজারের ভাই-বোন ট্রেডার্সের মালিক গোলাম রব্বানী নামে এক ব্যবসায়ী সুবললতা জাতের উচ্চ ফলনশীল ভেজাল বোরো ধানের বীজ বাজারজাত করে।
উপজেলার সরুগ্রামের কৃষক খৈয়ব আলী জানান, সার, তেল ও কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষ করে উত্পাদন খরচই ওঠে না। তাই এবার ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানীর কাছ থেকে বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করি। এ বীজের চারা দিয়ে ৫ বিঘা জমি রোপণ করি। পরে ওই জমিতে সার, কীটনাশক দিতে গিয়ে দেখি ধান গাছের কোনো গোছা হয়নি। এছাড়া ধান গাছ মারা যাচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুল হাকিমসহ শতাধিক কৃষক জমিতে এই ধানের চাষ করে প্রতারিত হয়েছেন।
বীজ বিক্রেতা গোলাম রব্বানী বলেন, বীজে ভেজাল ছিল কি-না, জানি না। মহাজনের কাছ থেকে বীজের প্যাকেট কিনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি। এই ধানের বীজ আগেও বিক্রি করেছি। কিন্তু কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে এবার যাদের কাছে এই বীজ বিক্রি করেছি সব কৃষকই এ ধরনের অভিযোগ দিয়েছে।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে বীজ বিক্রেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
