জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিলে অনেক সময় পানি দেখা যায় না। মনে হয় যেন লাল শাড়ি পরা কোনো নারী শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছে। বেলা ২টার পর শাপলাগুলো চোখ বুঝে ফেলে। এই খেলা চলবে সারা শীত মৌসুমে যত দিন হাওরে পানি থাকবে। লাল শাপলার এই অপরূপ সৌন্দর্য রয়েছে ডিবির হাওর, ইয়াম বিল, হরফ কাটাসহ আরও কয়েকটি বিলে। সৌন্দর্যের আকর্ষণে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে পর্যটক।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর কিছু ভূমিদস্যুর কবলে পড়ে লাল শাপলার বিল তার শ্রী হারিয়ে ফেলে। তারা বিলে মহিষ চড়ানো, শাপলা ফুলের মূল উত্তোলন, সময়ের আগে বিলের পানি ছেড়ে দেওয়ায় বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি এসব বিল ইজারা না দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে সরকারকে। এ দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা বাপা’র উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধনও পালন করা হয়।
এদিকে ‘লাল শাপলা বাঁচাও’ কমিটি ও ‘জৈন্তা পর্যটন উন্নয়ন ও সংরক্ষণ’ কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিমের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এ বছরও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে লাল শাপলার বিলগুলো। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে লাল শাপলা বিল ডিবির হাওরে ভিড় জমে পর্যটকদের। জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র, রাতারগুল, বিছনাকান্দী, মায়াবন, পানতুমাইর মায়াবী ঝর্ণা, বল্লঘাটের জমিদারবাড়ী, লালাখাল, শ্রীপুরের চা-বাগান প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ডিবির হাওরের লাল শাপলার ইয়াম বিলও স্থান দখল করে নিচ্ছে। পর্যটকরা বলেন, সরকারি উদ্যোগে যদি লাল শাপলার বিলকে ঘিরে ‘পর্যটন কেন্দ্র’ ঘোষণা করা হয়- তাহলে বিনোদনের সুযোগ বাড়বে ও কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে। পর্যটন খাতে আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
ইয়াম বিল ছাড়াও এখানে রয়েছে লাল শাপলার আরও তিনটি বিল। বিলগুলোতে সূর্যদয়ের পর ৬টা হতে ১২টা পর্যন্ত লাল শাপলার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বেলা বাড়ার সঙ্গে ফুলগুলো নিশ্চুপ নীরব হয়ে যায়। লাল শাপলার ফুটন্ত ফুল ও বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি ও প্রজাপতিতে মনোমুগ্ধকর এসব বিলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘন কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলবেঁধে ছুটে আসে অগণিত পর্যটক।
