কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় থেকে শুরু হয়ে দিনের বিভিন্ন সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকালে ‘এ’ ইউনিট ও বিকালে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে কোটবাড়িতে গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল প্রাঙ্গণ ও চাঙ্গীনি এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল হাসান আলিফ ও সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে যগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ গুরুতর আহত হয়েছেন। আরো আহত হয়েছেন ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী পার্থ, জিসান, পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সজলসহ কয়েকজন। সংঘর্ষের সময় ওই পথ দিয়ে গাড়িতে করে কেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সৈয়দুর রহমান। গাড়ি থেকে নেমে তারা সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান, বাহিরাগতদের হাতে লঞ্ছিত হন সহকারী প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা। পরে সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজের সমর্থকরা কাজী নজরুল ইসলাম হলের সভাপতি আলীফের কক্ষ (৫০৫) ভাংচুর করেন। এ সময় প্রাধ্যক্ষের অফিস কক্ষও ভাংচুর করা হয়।
ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজা-ইলাহী জানান, সভাপতি আলিফ বহিরাগতদের নিয়ে হামলা করেছেন এতে শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে সভাপতি আলিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্র্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রশান্ত পাল বলেন, ‘আমরা ব্যস্ত আছি। আপনারা যা খুশি লিখে দেন।’
