পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ২২:০৬

বিশ্ব প্রবাহ ডেস্ক

 

এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটু অন্যরকম ভাবে পালন করল পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। দিবসটি উপলক্ষে মহিলাদের প্রতি সম্মান জানাতে এক হিন্দু নারীর হাতে তুলে দেওয়া হলো পার্লামেন্টের দায়িত্ব, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম। ওই নারী হচ্ছেন কৃষ্ণা কোহালি। তিনি দেশটির প্রথম হিন্দু সিনেটর। পার্লামেন্ট পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত কৃষ্ণা বলেছেন, এই কাজের জন্য কোনো মুসলিম নারীকে বেছে না নিয়ে তাকে মনোনীত করায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।

কৃষ্ণা কোহালি গত বছরের মার্চ মাসে নির্বাচনে সিনেটর হিসাবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি অধিকাংশ সময়ে কাজ করেছেন চুক্তিবন্ধ শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে। সিন্ধুর নগরপকর এলাকার ধানাগাম গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণা। ওই এলাকার কোহালি সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের চালকের আসনে বসলেন তিনি।

তবে পাকিস্তান পার্লামেন্ট পরিচালনার সুযোগ পেলেও তার ছোটবেলা কেটেছে প্রচুর বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়েই। কুর্নিতে বসবাস করার সময় তার পরিবার বাড়ির মালিকের হাতে বন্দি ছিল প্রায় তিন বছর। সেই সময় কৃষ্ণা ছিলেন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিবাহ হয়ে যায় তার।

তবে এই বিবাহ বা বন্দি দশা দমিয়ে রাখতে পারেনি কৃষ্ণাকে। বিবাহর কয়েক বছর পরেই তিনি ফের পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৩ সালে সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সমাজবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাস করেন। তারপর পাকিস্তান পিপলস পার্টিতে যোগ দিয়ে সমাজকর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট পরিচালনার ভার পেয়ে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু অধিকারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন এই নারী।