আরো নাজুক হয়ে উঠতে পারে উ. কোরীয় অর্থনীতি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ২২:০৭

 

তৌহিদ আজিজ

 

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে সাম্প্রতিক ট্রাম্প-কিম বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো। যে প্রত্যাশা নিয়ে বৈঠক হয়েছিল তার ছিটেফোঁটাও পূরণ হয়নি বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। মূলত উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার খড়গ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এতে করে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে দেশটি। কিন্তু বাস্তবচিত্র ভিন্ন হওয়ায় সে আশায় গুঁড়ে বালি হলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি আরো নাজুক হয়ে উঠতে পারে।

মূলত আলোচনা ভেস্তে যাবার কারণ হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ। আলোচনায় উভয়ের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বৈঠক শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। বৈঠকের সময় উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মাঝে বেশ স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যায়। সে সময় তিনি বলেন, আমার এখানে উপস্থিতির অর্থই হচ্ছে নিরস্ত্রীকরণে আমি আগ্রহী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের এই বক্তব্যকে প্রশংসা করে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ থেকে বুঝা যায় কিম বৈঠকের বিষয়ে কতটা আন্তরিক। তাই আমার বিবেচনায় কিমের ওই জবাবই তার সেরা জবাব। ট্রাম্পের এই প্রশংসার পর থেকে ধরে নেওয়া হয়েছিল যে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া এতে করে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠবে তা বলা না গেলেও এর কারণে তাদের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই তাদের দুর্বল অর্থনীতি ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে সে দুর্বলতার মাত্রা আরো বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ ও খরার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে আসে। জিডিপি গত বছরে কমে ৩ দশমিক ৫ ভাগে এসে দাঁড়ায়। এটি বিগত ১৯৯৭ সালের থেকে সবচেয়ে কম বলে দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে উত্তর কোরিয়া নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতেই বেশি পছন্দ করে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাপক আন্তর্জাতিক অবরোধের কারণেই তাদের অর্থনীতির এ নাজুক অবস্থা। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস কো-অর্ডিনেশন টিম জানায়, আন্তর্জাতিক এ অবরোধ বেশি শক্তিশালী ছিল গত বছরে। এ সময়ই তাদের বাহ্যিক বাণিজ্য ভলিউম বেশি কমে আসে। বিশেষ করে কয়লা, স্টিল, মাছ, টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে তাদের অর্থনীতি বেশি ধরাশায়ী হয়। কাজেই এই ধারাবাহিকতায় তাদের অর্থনীতি সামনে যে আরো বেশি খারাপ হবে তারই ইঙ্গিত বহন করে।