যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একটি ক্লিনিকে ঢুকে তিনজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছেন সন্দেহভাজন খুনি। বিবিসি বলছে, আদালতে দোষ স্বীকার করে নিজেকে ‘শিশুদের পক্ষের যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছেন ৫৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজন রবার্ট লুইস ডিয়ার।
অভিযোগের শুনানি চলাকালে আদালতকে ডিয়ার বলেন, আমি দোষী। বিচারের কোনো দরকার নেই। আমি নবজাতকদের পক্ষের একজন যোদ্ধা। ক্লিনিকটিতে গুলি চালিয়ে দুই বেসামরিক ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা ও অপর নয়জনকে আহত করার দায়ে তার বিরুদ্ধে ১৭৯টি অভিযোগ এনেছেন সরকারি আইন কর্মকর্তারা।
IMG0
শুনানি চলাকালে তার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর খুনের অভিযোগও আনা হয়। গ্রেপ্তারের সময় ডিয়ার বেশ কয়েকবার ‘আর কোনো শিশুর খণ্ডাংশ নয়’ কথাগুলো উচ্চারণ করেছিলেন। এ সময় ডিয়ার বলেন, ক্লিনিকটিতে আমি কী দেখেছি তা আপনারা কখনও জানতে পারবেন না। নৃশংসতা! তারা তা (শিশুর জন্ম)বন্ধ করতে চায়।
‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’ নামের ওই সরকারি ক্লিনিকে গর্ভপাতও করানো হয়। ডিয়ার এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ইঙ্গিত পাওয়া স্বত্বেও ক্লিনিকে তার গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে শুনানিকালে কোনো আলোচনা করেনি পুলিশ। এর আগে বিবিসি জানিয়েছে, প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী প্রধান ভিকি কোয়ার্টও এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া নিশ্চিত তথ্যে তারা জানতে পেরেছেন যে, কলোরাডোর স্প্রিংসের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ১২ জন হতাহতের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি নিরাপদ এবং বৈধ গর্ভপাতের বিরোধিতার কারণেই এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
প্ল্যানড প্যারেন্টহুড পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে মূলত গর্ভপাত এবং যৌনরোগের চিকিৎসা হয়। একারণে ক্লিনিকগুলোর ওপর গর্ভপাত বিরোধীদের আক্রোশ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে এ ধরনের ক্লিনিক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গর্ভপাতের-বিরোধীরা প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের বিরুদ্ধে অতীতে অনেক বিক্ষোভ করেছে। ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর পর মৃত অপুষ্ট শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় কাজে লাগানো হয় এমন অভিযোগে বিক্ষোভ করে গর্ভপাত বিরোধীরা।
বিশেষ করে কলোরাডো স্প্রিংসের ক্লিনিকটি তখন থেকেই ‘গর্ভপাত’ ক্লিনিক হয়ে ওঠে প্রতিবাদকারীদের কাছে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা জাল ভেদ করেই ক্লিনিকে অবলীলায় ঢুকে পড়েন নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা রবার্ট লুইস ডিয়ার। পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টা পাঁচেক গুলিবিনিময়ের পর আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।
এ ঘটনার জেরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আইন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘‘যথেষ্ট হয়েছে” মন্তব্য করে ফের অস্ত্র আইন কঠোর করার ডাক দেন। তবে তার এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। বিবিসি।
