যক্ষ্মা আর আগের অবস্থায় নেই। এখন আর কেউ যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণ করে না। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ সেবনের (ডিরেক্টলি অবজারভ ট্রিটমেন্ট-ডিওটি) মাধ্যমে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়। ডিওটি কার্যক্রম বাংলাদেশে অনেকটাই সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, এ সফলতার পরেও প্রতি দশজনে একজন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। এর ৮০-৮৫ শতাংশ ফুসফসে হয়। যা অনেক সময় কফ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায় না।
বৃহস্পতিবার ব্র্যাক সেন্টারে ‘ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা মোকাবেলায় ডিওটি’র ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এর আয়োজক দৈনিক ইত্তেফাক ও ব্র্যাক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এই সমস্যা সমাধানে পর্যায়ক্রমে সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন দেয়া হচ্ছে বলে জানান। তবে সেই মেশিন ব্যবহারের জন্যও দক্ষ জনবলের অভাব আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে সকলের প্রচেষ্টায় একদিন বাংলাদেশ যক্ষা মুক্ত হবে।
ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো জাহাঙ্গীর আলম সরকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি ডা. রশীদ-ই-মাহবুব, নাটাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু, ম্যালেরিয়া ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ডা. মো. আকরামুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির সমন্বয়ক সদরুল হাসান মজুমদার, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূিচর টিবি এন্ড ল্যাপ্রসি লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মোজাম্মেল হক।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিটি এডিটর আবুল খায়ের, ব্র্যাকের টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শায়লা ইসলাম, বারডেম মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. খাজা নাজিমুদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার আসিফুর রহমান সাগর।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বুকের টিবি ছাড়া অন্যান্য টিবি সনাক্তকরণ একটি সমস্যা। এই সনাক্তকরণে জিন এক্সপাট মেশিন দরকার। তবে আর এক সমস্যা হল থানা বা জেলা হাসপাতালে জিন এক্সপার্ট মেশিন চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের একটি ইলেট্রিক্যাল হেলথ ফাইল করবে সরকার।
