মুলাদীতে টিআর কাবিখার পাঁচ প্রকল্পে হরিলুট

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫, ০২:৩৮

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), এতিম অসহায়দের জন্য বরাদ্দ (জিআর) ও ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে মুলাদী উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। ঐ কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এসব প্রকল্পে হরিলুট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতিকে সহযোগিতা করার জন্য নিজের শ্যালকসহ তিনজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো কাজ না করেই কাবিটা কর্মসূচির আওতাধীন ১০টি প্রকল্পের অর্থছাড় করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
 
টিআর কর্মসূচির আওতায় মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৪০ হাজার টাকা, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় একই ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি বজায়শুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সোলাল প্যানেল স্থাপনে ৪০ হাজার টাকা, টিআর কর্মসূচির অধীনে পৌরসভার মোল্লাবাজার জামে মসজিদে ২০ হাজার টাকা, ৮নং ওয়ার্ডের মেহেদী হাসানের বাড়ি হতে জিসিআর রাস্তা পর্যন্ত মাটি কাটা বাবদ টিআর থেকে ১ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসকল প্রকল্পের কোনোটিতেই সামান্যতম কাজ হয়নি। একইস্থানের ভিন্ন নাম ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাত্ করার  অভিযোগ করেন এলাকার বাসিন্দারা।
 

পৌরসভার মোল্লারবাজার জামে মসজিদে সোলার স্থাপন ও মোল্লার বাজার জামে মসজিদে সোলার নাম দিয়ে দু’টি প্রকল্প দেখিয়ে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মোল্লারবাজারে একটিই জামে মসজিদ রয়েছে। ওই মসজিদটিতেও প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কোনো সোলার স্থাপন করা হয়নি। অভিযোগ, ভূয়া কমিটি গঠন করে পিআইও ওইসব বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত্ করেছেন।  স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় ধাপের বিশেষ বরাদ্দের ৫৬টি কাবিটা প্রকল্পে সোলার স্থাপনে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০৯টি টিআর প্রকল্পের বেশিরভাগই সোলার স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্রকল্পে সোলার স্থাপন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হলেও বেশিরভাগ প্রকল্পের কোনো কাজই হয়নি। যে সব প্রকল্পে কিছু কাজ হয়েছে তাও ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে সোলার স্থাপন করে বাকি টাকা পিআইও এবং প্রকল্প সভাপতি ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। একইভাবে সংসদ সদস্যর প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দের প্রকল্পগুলোর নামেও পিআইও তার সহযোগীদের নিয়ে টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান-ডিজিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দিয়েছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত জিআর প্রকল্পের ২৫টি খাতে কোনো কাজ না করেই ৫০ টন চাল আত্মসাত্ করেছেন পিআইও নজরুল। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে এই ৫০ টন চাল আত্মসাতের প্রমাণ পান।