র‌্যাব পরিচয়ে রুয়েট শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:১৭
 
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহাগকে র‌্যাবের পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবার এই অভিযোগ করেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে ব্যবসায়ী আক্কাসউজ্জমান জানান, এ ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ৬১৯, তাং ১০-১২-১৫) করা হয়েছে। অপহৃত সোহাগ রুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার তেরোখাদিয়া (বাসা নং ২০৯/এ) পশ্চিমপাড়ায়। তবে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সোহাগকে ধরতে তারা কোনো অভিযান চালায়নি। আর থানা পুলিশ বলছে, তারাও এই বিষয়ে কিছুই জানে না।
 
সাইফুজ্জামান সোহাগের বাবা আক্কাসউজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে ১০/১২ জনের একটি দল সাদা মাইক্রোবাসে এসে র‌্যাব বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির গেট খুলতে বলে। আমরা প্রথমে গেট খুলতে চাইনি। পরে সোহাগ নীচে গিয়ে গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা ৬/৭ জন তিন তলায় আমার ছেলের ঘরে যায় এবং ওর ল্যাপটপ খুলে কী কী আছে দেখতে থাকে। ওই সময় তাকে এবং তার স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে ঘিরে রাখে। তাদের কোনো কথাও বলতে দেয়ানি, ছেলের ঘরেও যেতে দেয়নি। কিছুক্ষণ পর ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও মোবাইলসহ সোহাগকে তারা তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? জানতে চাইলে তারা সকালে থানায় খোঁজ নিতে বলেন।
 
আক্কাস আরো জানান, সোহাগ বিবাহিত। তার স্ত্রী ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়েন। সোহাগের শ্বশুর রেজাউর রহমান দুলাল রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক। স্বামীকে অপহরণের খবর পেয়ে বাসায় ফিরে সোহাগের স্ত্রী দেখেছে, ঘরের মধ্যে থাকা তাঁর গহনাও পাওয়া যাচ্ছে না।
 
সোহাগের বাবা জানান, আমরা বৃহস্পতিবার সকালে রাজপাড়া থানায় খোঁজ নিতে গেলে আমাদের বলা হয়েছে, সোহাগ সেখানে নেই। পুলিশ নাকি কিছুই জানে না। আমরা র‌্যাবের কাছেও গিয়েছি। তারা বলেছে, রাতে নাকি আমাদের এলাকায় কোনো অভিযানই চালায়নি। সোহাগকে উদ্ধারে সহায়তার জন্য গণমাধ্যমের কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি কেদে ফেলেন। তিনি বলেন, 'আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ছেলে যদি অপরাধ করেও থাকে, তাকে আদালতে সোপর্দ করে আইনের আওতায় আনা হোক।'
 
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুজ্জামান সোহাগের মা শিরিন জামান জানান, র‌্যাব পরিচয়ে যারা এসেছিল, তারা সোহাগের সঙ্গে তার সহপাঠী এক ছাত্রীর বিষয়ে কথাও বলেছে। তবে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
 
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল বলেন, 'আমরা ঘটনা শুনেছি। দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে বলেছি। দলের কারো সঙ্গে সোহাগের কখনো ঝামেলা হয়েছে বলে শুনিনি।'
 
তবে সোহাগকে 'তুলে নিয়ে যাওয়ার' খবর পাননি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম বেগ।
 
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, 'আমরা এখনো তার খোঁজ পাইনি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।' অন্যদিকে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর উপ অধিনায়ক মেজর সালাম বলেন, তাদের কোনো দল সোহাগকে গ্রেফতারে অভিযানে যায়নি। ওর বাবা আমাদের অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে কী ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করছি।