কক্সবাজার-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবং টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান এমপি আমানুর রহমান রানাকে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সমালোচনা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আবদুর রহমান বদির পরিবর্তে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী। একইভাবে খুনের দায়ে কারাবন্দী টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার পরিবর্তে তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজারের বদি এবং টাঙ্গাইলের রানা এই দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। কারণ এই দুইজন সম্পর্কে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আছে। যদিও জরিপে তারা অনেক এগিয়ে আছে। এরপরও বিতর্কিত হওয়ায় সমালোচনা এড়াতে এবার তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। বদির আসনে বদির স্ত্রী আর রানার আসনে রানার পিতাকে নমিনেশন দেওয়া হবে। এটা আমি আগেভাগেই বলছি যদিও আমরা ঘোষণা দেইনি।’
বদির পরিবর্তে বদির স্ত্রীকে মনোনয়ন দিলে কি আদৌ কোনও পরিবর্তন আসবে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এক পরিবারের সবাই তো আর খারাপ নয়। ঘরে কি সবাই অপরাধী? আপনি অপরাধী হলে কি পরিবারের সব খারাপ লোক? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি (বিতর্ক) আছে, তার কোনো প্রমাণ আছে? তবু কন্ট্রোভার্সি থাকায় অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘যাদের নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে তাদের মধ্যে উল্লিখিত দুই জনের নাম আমি উল্লেখ করলাম।’
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপি হন আব্দুর রহমান বদি। এরপর ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম এলেও ২০১৪ সালে তার দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির এক মামলায় ২০১৬ সালে ক্ষমতাসীন দলের এই এমপিকে তিন বছরের কারাদন্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী খান পরিবারের সদস্য রানা ২০১২ সালের উপ-নির্বাচনে ঘাটাইল আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দল তাকে আবারও কাছে টেনে নেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার এমপি হন তিনি। এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অন্তত তিন ডজন মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা।
স্কাইপে বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যা বলেছে, সঠিক বলেছে। আকাশ সংস্কৃতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো মিসাইল নেই। এখানে তো অলরেডি হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার, এটি অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে, এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করা সাইবার ক্রাইম হিসেবেও হতে পারে। এছাড়াও আমাদের হাতে অন্য অপশন তো আছে। আমরা জনতার আদালতে বিচার দিলাম।’
হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে কী বিষয়ে আলাপ হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশের যে উন্নয়ন কাজ চলছে তা নিয়েই বেশিরভাগ আলোচনা হয়েছে।’ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য হবে ভারত এমনটিই প্রত্যাশা করে।’ দেশে স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কথা ভারত বলেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্থিতির জন্য এ সরকার কনটিনিউ করবে, এ কথা ইন্ডিয়া কেন বলবে? ভারত কি পারবে আমাদের জেতাতে? জনগণ যদি ভোট না দেয়, সেটা কি আমরা আশা করব? এটা তো আমাদের দেশ। এটা তো ইমপসিবল।’
বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের কারও কারও মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ পড়ার যে খবর সংবাদমাধ্যমে আসছে, সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোন মন্ত্রী খারাপ আমাকে বলুন। কীভাবে মেজার করব? বেইজটা কী যে ওমুক খারাপ লোক? হেভিওয়েট ব্যক্তি বা এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পড়তে পারেন, এ মুহূর্তে বলব না। চমক বলব না, নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন।’ শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০ আসন দেওয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শরিকদের কাছে বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী চাওয়া হয়েছে। যারা উইনেবল নয়, তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
জাতীয় পার্টির (জাপা) এইচ এম এরশাদ জোট ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছি। কোনো ফাঁকফোকর নেই, এরশাদ সাহেবের অধিকার আছে, তিনি যদি অন্য কোথাও চলে যান, বাধা দিতে পারব না। মহাজোটের সমঝোতায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে বলে মনে করি না।’ আদাবরে সংঘর্ষের কারণে কেন্দ্রীয় নেতারা মনোনয়ন পাচ্ছেন না একজন সাংবাদিক এ বিষয়টি তুলে ধরলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। ওই কারণে কেউ মনোনয়ন পাচ্ছেন না, এটা সত্য নয়। সেখানে অন্য বিষয় আছে।
