ভারত-পাকিস্তানের লড়াই ১৯ মার্চ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৫:১৯
চির বৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা চলছে, সেই সময়ে দামামা বাজলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আগামী বছর ভারতের মাটিতে  অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের ষষ্ঠ রাজসূয়া আসরটি। তাতে ভারত ও পাকিস্তানের ‘হাই ভোল্টেজ’ লড়াই হবে ১৯ মার্চ, চোখ জুড়ানো ভেন্যু ধর্মশালায়।
 
বিশ্বকাপটি  মাঠে গড়াবে ৮ মার্চ, ফাইনাল হবে ৩ এপ্রিল। আইসিসি গতকাল বিশ্বকাপটি গ্রুপিং ও সূচি প্রকাশ করলে এ তথ্য মেলে। আয়োজক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক অনুরাগ ঠাকুর এমপি গতকাল মুম্বাইয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন তারা এ বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠানে পুরোপুরি প্রস্তুত। অপরদিকে আইসিসি সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর সফল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ভারত এমন একটা দেশ যেখানে ক্রিকেট ধর্মের মতো। খেলাটির প্রতি ভারতের মতো এতটা অনুরাগ আর কেউ দেখাতে পারে না।
 
অনুরাগ ঠাকুর বলেন, আমরা স্বাগতিক হিসাবে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বিনোদনদায়ী আসরটি আয়োজনে পুরোপুরি প্রস্তুত। ভারত ১৯৮৭, ১৯৯৬ ও ২০১১ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। আমরা আশ্বস্ত করতে পারি এ দফায় এটি আরো বড়, আরো ভালো এবং সবচাইতে আনন্দদায়ী হবে।
 
বাংলাদেশ খেলবে আট দলের দুই গ্রুপে বিভক্ত করা প্রথম রাউন্ডে। এ রাউন্ড থেকে শীর্ষ দুটি দল সুপার টেন এ অপর আট দলের সাথে যোগ দেবে। সুপার টেন এর দুই গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল খেলবে সেমিফাইনাল। সে তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েরা সরাসরি খেলবে সুপার টেন, যেখান থেকে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল যাবে শেষ চারে। 
 
পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে একই সাথে। এবারের আসরটিতে পুরস্কারের অঙ্ক বিশাল। ২০১৪-র বিশ্বকাপের তুলনায় যা ৮৬ শতাংশ বেশি। এবার পুরুষদের নগদ পুরস্কারের পরিমাণ ৫৬ লাখ ডলার।  সে তুলনায় অবশ্য নারীদের বিশ্বকাপের জন্য  পুরস্কারের বরাদ্দ কেবল চার লাখ ডলার। এরপরও তা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরটি চাইতে ১২২ গুণ বেশি।
 
সব মিলিয়ে ২৭ দিনের এ প্রতিযোগিতায় ৫৮টি খেলা হবে। এর মধ্যে ৩৫টি পুরুষদের, ২৩টি নারীদের। খেলাগুলো হবে বাঙ্গালোর, চেন্নাই, ধর্মশালা, কলকাতা, মোহালি, মুম্বাই, নাগপুর ও নতুন দিল্লীতে। মুম্বাই ও দিল্লীতে ৩০ ও ৩১ মার্চ সেমিফাইনাল দুটি অনুষ্ঠিত হবে। আর ফাইনালের ভেন্যু সেই চিরচেনা কলকাতার ইডেন গার্ডেন।
 
পুরুষদের প্রতিযোগিতায় আগের পাঁচ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচটি ভিন্ন দল। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আসরটির চ্যাম্পিয়ন ভারত। এরপর একে একে জিতেছে পাকিস্তান (২০০৯), ইংল্যান্ড (২০১০), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১২) ও ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আসরটিতে শ্রীলঙ্কা। নারীদের প্রতিযোগিতাটি শুরু হয় ২০০৯ সালে যাতে জয়ী হয়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এর পরের তিনটি আসর টানা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকইনফো।