দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাইকমান্ডের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি, আটজনকে শোকজ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৭:১৬

দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী ও আইরিন পারভিনসহ আটজনকে দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শাও নোটিশ। এক সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদেরও অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।


স্থানীয় সময় শনিবার রাতে নিউইয়র্কে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো জানান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।


সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৬ ও ৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ সংগঠনের সভাপতির অনুমতি ছাড়াই কার্যকরী পরিষদের সভা আহ্বান করেন, যা গঠনতন্ত্র মোতাবেক অবৈধ। ওই সভায় অতি উৎসাহী হয়ে যোগ দেন যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী ও আইরিন পারভিন। সভায় সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালায়।


বিষয়টি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ হাইকমান্ডের দৃষ্টিগোচর হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে অব্যাহতির নির্দেশ দেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহতি বহাল থাকবে। একইসঙ্গে সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী ও আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুল হাছিব মামুন, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম এবং উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনিকে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।


সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের ছেলে লুৎফর রহমান সুইট অনুমোদন ছাড়াই নবীন লীগের উপদেষ্টা হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করেছেন। এই অপরাধে জনসম্মুখে নোটিশ দিয়ে তার অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সকলকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সাংবাদিক সম্মেলনের সঞ্চালক ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।


সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী উপস্থিতিতে জনাকীর্ন এই সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সকল কর্মকাণ্ড মনিটরিং করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয় সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানসহ কার্যকরী সভা আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাওয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।


তিনি জানান, নবীন লীগ নামে আওয়ামী লীগের কোনো সংগঠনের স্বীকৃতি নেই। অথচ উপদেষ্টা হিসাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে সাধারণ সম্পাদকের ছেলে দেশে বিদেশে চাঁদাবাজি করেছেন। এ কারণেও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের দলে অবদানের কথা তুলে ধরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে তিনি দিনরাত আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। এ কারণে আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন তার সুখকর নয় উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি হাইকমান্ডকে কিছুই জানাননি। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হাইকমান্ড সবকিছু জেনেছেন। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের দলীয় আদর্শ, উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলার পরামর্শ দেন।


এদিকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ শনিবার রাতে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি অব্যাহতির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পদ-পদবী না থাকলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই থাকবেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিহিংসার বশে দলীয় প্রধানকে তার ব্যাপারে ভুল বোঝানো হয়েছে।


নবীন লীগ গঠন করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে ছেলের চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, তার ছেলের বয়স মাত্র ১৮ বছর। এই বয়সে ছেলে ভুল করতেই পারে। তবে নবীন লীগ বিলুপ্ত করা হবে বলে জানান তিনি।


সভাপতির অনুমতি ছাড়া কার্যকরী পরিষদের সভা ডাকা এবং সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে সাজ্জাদুর রহমান দাবি করেন, তিনি সভাপতির অনুমতি নিয়েই সভা ডেকেছিলেন। কিন্তু সভাপতি দেশে চলে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই সভা হয়েছে। তবে সভায় সভাপতিকে বহিস্কারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


এদিকে সভাপতিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অস্বীকার করলেও শনিবার রাতে নিজ স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ দল থেকে বহিষ্কৃত সকল সদস্যদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দল থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্যদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা এই মুহূর্ত থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। তিনি আরো জানান, শিগগিরই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার সকল ভেদাভেদ দূর করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করাসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলা হবে।