শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় শিবিরে পরিণত হওয়া এথেন্সের একটি অলিম্পিক স্টেডিয়ামের বাইরে খাবার নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকশ আশ্রয়প্রার্থী। এসময় তাদের ওপর নজর রাখছিলেন ভারি অস্ত্রে সজ্জিত গ্রিসের দাঙ্গা পুলিশ। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে এই আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্ত থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল গ্রিসের নিরাপত্তা বাহিনী। বিতাড়িত হওয়া এক হাজারেরও বেশি শরণার্থী এখন এথেন্সের শহরতলীর তায়কোয়ান্দো স্টেডিয়ামটিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
সিরিয়া, ইরাক অথবা আফগানিস্তানের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে না পারায় মেসিডোনিয়া তাদের ফিরিয়ে দেয়। তাদের ফের পাঠিয়ে দেয়া হয় অ্যাথেন্সে। এদের মধ্যে ইরান, মরক্কো, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া এবং কঙ্গোসহ সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আশ্রয়প্রার্থীরা রয়েছেন।
আশ্রয় শিবিরের খাবারের কাউন্টারের বাইরে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ২০ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক মাহদি এই স্টেডিয়ামটি ‘পশুদের জন্যও উপযুক্ত কি-না’ সেই প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বিছানা ছাড়াই আমরা কংক্রিটের মেঝেতে ঘুমাচ্ছি। রাতে মানুষ ঘুমাতে পারে না, কারণ এদিক-সেদিক নড়াচড়া করতে গিয়ে একজন আরেকজনের ওপর পা ফেলে’।
মাহদি জানান, আশ্রয় শিবিরটিতে খাবার হিসেবে ছোট্ট এক টুকরো মাংসসহ দুইটি শুকনো রুটি দেয়া হয় যেগুলোর কোনো স্বাদ নেই। তিনি বলেন, ‘যেনতেনভাবে খাবার খাওয়ায় আমি এই জায়গাটার ওপর খুব বিরক্ত’। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরাও তোমার মতোই মানুষ। তাহলে কেন আমাদের সাথে এরকম আচরণ করা হবে?’ গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রী ইয়ানিস মৌজালাস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে কর্তৃপক্ষের অপ্রতুল প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানিনা শরণার্থীরা এখান থেকে কোথায় যাবে’। সূত্র: আল জাজিরা
