পালং কথন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৩

 

n  আফসানা আফরিন

 

‘পাপাই :দ্য সেইলর ম্যান’ কার্টুনটি দেখেনি, নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা এমন ছেলেমেয়ে মনে হয় পাওয়া যাবে না। কার্টুনটির মূল চরিত্র পাপাইকে প্রায়ই দেখা যেত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং কাজে শক্তি বাড়ানোর জন্য স্পিন্যাচের কৌটা সাবাড় করে ফেলতে! আর এই স্পিন্যাচ আমাদের দেশে পালং শাক হিসেবে পরিচিত। এর পুষ্টি উপাদানের জন্য শাক হিসেবে রান্না করা ছাড়াও সালাদ, স্ন্যাকস, ফাস্টফুডেও আজকাল বিভিন্নভাবে ব্যবহূত হচ্ছে পালং শাক। এছাড়াও ওজন কমাতে যারা ডায়েট চার্ট ফলো করেন, তাদের প্রায় সবার পছন্দের তালিকায় এই পালং শাক জায়গা করে নিয়েছে নির্দ্বিধায়! চলুন জেনে নিই খুব কম সময়ে ও সহজেই কিভাবে বাসার অল্প জায়গায়, বারান্দায় অথবা ছাদে পালং শাক চাষ সম্ভব।

পালং শাকের চাষের জন্য সাধারণত চওড়া পাত্র বা টব বেশ উপযোগী। সচরাচর পাওয়া যায় এমন মাটির বা প্লাস্টিকের টব না নিয়ে বাসার ফেলে দেওয়া ঝুড়ি বা ফলের দোকান থেকে কিনে আনা ক্যারেটে বেড করলে খুব সুন্দরভাবে এই শাক বেড়ে ওঠে। ঝুড়ি বা ক্যারেটে বেড করলে অবশ্যই পলিথিন দিয়ে ভিতরের দিকে ঢেকে এরপর পটিং মিক্স দিতে হবে ; তা না হলে ফাঁক-ফোকর দিয়ে সব মাটি পড়ে যাবে। ক্যারেট বেশি বড় হলে যেকোনো মাঝারি সবজি যেমন বেগুন, টমেটো বা মরিচ গাছ লাগিয়ে চারপাশে পালং শাকের বীজ বুনে দেওয়া যায়।

শাকের গোড়া যেহেতু খুব নরম তাই পটিং মিক্সে বালির পরিমাণ রাখতে হবে বেশি। ৫০% বালি, ২৫% গোবর সার, ২৫% শাক সবজির উচ্ছিষ্ট বা ভার্মিকম্পো, ৫০% মাটি দিয়ে পটিং মিক্স বানিয়ে ক্যারেট বা ঝুড়ি ভর্তি করতে হবে। নার্সারিগুলোতে ২০-৩০ টাকায় পালং শাকের বীজের প্যাকেট পাওয়া যায়। বীজগুলো একটি বাটিতে একদিন পানিতে ভিজিয়ে এরপর বানানো বেডে ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর ওপরে একটু পানি ছিটিয়ে, মাটি চাপা দিয়ে ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে ৩/৪ দিন। এবার এমন জায়গায় ঝুড়ি বা ক্যারেটটি রাখতে হবে যেন সকালের রোদ আসে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। খুব কড়া রোদ, শক্ত মাটিতে পালং শাক ভালো হয় না। দিনে একবার পানি দিতে হবে। পনেরো দিন পর পর অল্প জৈব সার ছিটিয়ে দিলেই আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই পালং শাক খাওয়ার উপযোগী হয়।

নিজের বাগানের বিষমুক্ত তাজা পালং শাকের পাকোড়া, পুরি, কাবাব অথবা যেকোনো ভাজিভুজি খেতে কার না ভালো লাগে!