প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৪:৩১
বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে সোমবার প্রকাশিত 'বৌদ্ধ মন্দিরে রাষ্ট্রদূত মুনার প্রার্থনা!​' শীর্ষক প্রতিবেদনটি ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ​প্রতিবেদনটি ​'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য' বিধায় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।
 
ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো প্রতিবাদে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ​বাংলাদেশকে একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল লক্ষ্য। থাইল্যান্ড এবং কাম্বোডিয়ার মত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহে বাংলাদেশের বৌদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কুটনৈতিক সম্প্রীতি জোরদার করা এবং সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে বৌদ্ধ সার্কিট পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ানো দূতাবাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত 'Buddhist Heritage and Pilgrimage Circuits' সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশকে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। 
 
এ লক্ষে দূতাবাস গত ৯ ডিসেম্বর দূতাবাসের ৪০তম বর্ষপূর্তি এবং থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আসিয়ান বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন’ -এর সহযোগিতায় একটি সেমিনার ও রাজার সুস্বাস্থ্য কামনায় একটি বৌদ্ধ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটিতে থাইল্যান্ডের দুজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, দুই দেশের বৌদ্ধ ধর্ম গুরু আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এবং থাইল্যান্ডে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ এবং থাইল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি থাইল্যান্ডের সরকার, জনগণ ও মিডিয়ার কাছে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। আশা করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে যেমন- থাইল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পার্মিট ভিসাসহ থাই ভিসা প্রাপ্তি সহজীকরণ, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের শ্রম রফতানি সম্ভাবনা, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও আসিয়ান বুদ্ধিস্ট দেশগুলোর সঙ্গে অংশিদারিত্ব জোরদার করণে দূতাবাসের এই উদ্যোগ সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলবে।
 
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থাইল্যান্ডে কূটনীতিকদের কতিপয় রীতিনীতি মেনে চলার প্রটোকল রয়েছে, যা দেশটির স্পর্শকাতর রাজকীয় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিষয়টি একান্তই স্বাগতিক দেশে কুটনীতিক পেশাদারিত্বের অংশবিশেষ এবং রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত স্বার্থ অথবা ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ছবিতে থাইল্যান্ডে কর্মরত আর দশটি ভিন্নধর্মী রাষ্ট্রদূতের মতই,বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাইল্যান্ড-এর একজন বিখ্যাত ধর্মগুরুকে থাই সাংস্কৃতিক রেওয়াজ অনুযায়ী ‘সোয়াদিকা’র ভঙ্গিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, উপাসনা করছেন না। ছবিটিকে প্রতিবেদনে শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস।
 
উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতি উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার অবদানের জন্য থাইল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে, থাইল্যান্ডের যুবরাজ এবং রাজকুমারী থেকে বিশেষ স্বীকৃতির উপহার পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিরল অর্জন ।
 
ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো প্রতিবাদে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস জাতীয় স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আশা করে। বিজয়ের এই মাসের মূল্যবোধে উজ্জীবিত বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে থাইল্যান্ডের জনগণ ও সরকারের কাছে তুলে ধরবার দুতাবাসের প্রয়াসে, এই ধরনের ভ্রান্তিমূলক ও অপেশাদারী সাংবাদিকতা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। দূতাবাস আশা করে যে ভবিষ্যতে, সংশ্লিষ্ট সব সংবাদ মাধ্যম এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক ও ভিত্তিহীন সংবাদ, যা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এবং জনমনে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করে, তা পরিবেশনা থেকে বিরত থাকবে।