বিনামূল্যে বিতরণকৃত ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের সব বই এখনও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকাশকরা ইতোমধ্যে প্রাথমিকের ৭০ শতাংশ বই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। অবশিষ্ট ৩০ ভাগ বই ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।
তবে প্রকাশকগণ জানান, প্রাথমিকের সমস্ত বই ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা এমনকি থানা পর্যায়ে তারা পৌঁছে দেবেন। এতে কোন ব্যত্যয় ঘটবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র পাল এ প্রসঙ্গে জানান, ‘সরকার এবার বিনামূল্যে ৩৩ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৫টি বই বিতরণ করবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তরের ২১ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৫১৮টি বই ইতোমধ্যে সকল জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শুধু প্রাথমিক স্তরের সব বই এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে ৭০ ভাগ বই নির্দিষ্ট গন্তেব্যে পৌঁছে গেছে বলেও তিনি জানান’।
প্রাথমিক স্তরে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ১১টি বই বিতরণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বই ছাপানো নিয়ে বাংলাদেশ মূদ্রণ শিল্প সমিতির সাথে বিশ্বব্যাংক ও এনসিটিবি’র সৃষ্ট জটিলতা এবং কর্ণফুলি পেপার মিল থেকে কাগজ পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার কারণে এবার সময় একটু বেশি লাগছে। তবে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত বই গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এনসিটিবি কাজ করে যাচ্ছে’।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী ২ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ এর মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষার্থীর হাতে আমরা নতুন বই তুলে দিতে সক্ষম হব। সেই লক্ষ্যেই ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার কাজে এনসিটিবি প্রিন্টিং প্রেসগুলোর উপর কঠোর নজরদারি রেখে চলেছে’।
এনসিটিবি’র সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী জানান, ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতের মধ্যেই প্রাথমিকের ৯০ ভাগ বই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। বাকি ১০ ভাগ ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌঁছবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথা সময়ে বই পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রেস মালিকদের উপর কঠোর নজরদারি চলছে। মহান বিজয় দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করে প্রেস কর্মচারীদের ওভার টাইম করানোর জন্যও প্রেস মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়।
এনসিটিবি’র এ পাঠ্যপুস্তক বিষয়ক সদস্য জানান, প্রেস মালিকরা তাদের দেয়া নির্দেশ অনুসরণ করেছে কিনা, তা দেখার জন্য এনসিটিবি’র একাধিক টিম ১৫ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর প্রিন্টিং প্রেসগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা গেছে সব প্রেসেই পুরোদস্তুর কাজ চলছে।
তিনি জানান, কাজের শুরুতে সৃষ্ট জটিলতা ছাড়াও কর্ণফুলি পেপার মিলও সময়মত আমাদের কাগজ দিতে পারেনি। তাদের কাছে প্রায় ১৪৭ মে.টন কাগজ আটকে গিয়েছিল।
মিয়া ইনামুল হক জানান, দ্রুত সে কাগজ পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে আমাদের এনসিটিবি’র একজন স্টাফকে কর্ণফুলি পেপার মিলে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সেখানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেন এবং মিলে প্রতিদিন যত কাগজ উৎপাদন হয়েছ, তার প্রায় সবটাই দ্রুত ট্রাকে তুলে নির্দিষ্ট প্রিন্টিং প্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এভাবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যরাত পর্যন্ত এনসিটিবি তার নিজস্ব স্টাফের মাধ্যমে কর্ণফুলি পেপার মিল থেকে কাগজ সংগ্রহ করেছে। এ কাগজের কারণে প্রায় ২৮ লাখ বই ছাপানোর কাজ পিছিয়ে যায়।
পাঠ্যপুস্তক সদস্য ইনামুল হক আরো জানান, তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় সব কাগজই তারা প্রিন্টিং প্রেসে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন প্রেসগুলোতে পুরোদমে ছাপার কাজ চলছে। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেন তারা ছাপা ও বাইন্ডিংয়ের কাজ শেষ করতে পারে, সেজন্য প্রেসগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, কাজে যেন কোন গাফিলতি না থাকে এবং দ্রুত তা শেষ হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এনসিটিবি’র টিম প্রেসগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।
ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী মো. মোহসীন ও আনন্দ প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী মো. রব্বানী উভয়ে জানান, এনসিটিবি’র বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে তারা বই পৌঁছে দিতে চেষ্টা করবেন, তবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত বই যথা স্থানে পৌঁছে দিবে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ উদ্বোধন করতে পারবেন বলেও তারা দু’জনেই উল্লেখ করেন।
ব্রাইট প্রিন্টিংয়ের মো. মহসীন জানান, তিনি এবার প্রায় ৫ কোটি বই ছাপানো ও বাইন্ডিংয়ের কাজ পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রাথমিকের বই আছে প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ।
তার প্রেসে ছাপানো মাধ্যমিকের সমস্ত বই ইতোমধ্যে তিনি দিয়ে দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিকের বইয়েরও ৭০ ভাগ তার দেয়া হয়ে গেছে। অবশিষ্ট বই ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২ জানুয়ারি বই উতসবের দিন প্রাথমিকের সকল শিক্ষার্থী বই পাবে। এতে কোন ব্যত্যয় ঘটবে না। বাসস
