ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:১২
 
আবারো মার্কেটে কাপড় কেনার মূল্য নিয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে পথচারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। কাপড় কেনাকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নূরজাহান মার্কেটের দোকান মালিক-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 
IMG0
 
পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুরে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরসহ ঐসব দোকানের দামি কাপড় জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় তারা রাস্তায় চলাচলকারী ৭/৮ টি যানবাহন ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে মার্কেটের সামনে রাখা তিনটি মোটরসাইকেলও তারা জ্বালিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
IMG1
 
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন— ধানমন্ডির কাপড় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম (৪৮), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা হামিদা আক্তার (৪০), ঢাকা কলেজের ছাত্র শান্ত (২০), ইমরান হোসেন (২৪), ফুটপাতের দোকানি রনি (২৪) ও দোকান কর্মচারী আলমগীর হোসেন (২২)। এদের মধ্যে শান্তর অবস্থা গুরুতর বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। বাকি দুই জন স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
 
পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ও দক্ষিণ ছাত্রাবাসের ছাত্র আনোয়ারের কর্মী জাফর ও মাহবুব বিকাল তিনটার দিকে তাদের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য নূরজাহান মার্কেটে শাড়ি কিনতে যান। এ সময় দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। তারা দোকানদার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক দামে শাড়ি কিনে নিতে চান। এর একপর্যায়ে সেখানকার ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে জাফর ও মাহবুবকে আটকে ব্যাপক মারধর করেন। পরে ওই দুইজন ছাত্রাবাসে ফিরে গিয়ে অর্ধশতাধিক ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে নূরজাহান মার্কেটে গিয়ে হামলা চালান। তারা মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন দোকান থেকে কাপড় বের করে এনে মার্কেটের সামনে জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যবসায়ীরা সংগঠিত হয়ে ফিরে এলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। উভয়পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরের ওপর আক্রমণ করেন। ব্যবসায়ীদের ধাওয়ার মুখে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরে দুই পক্ষ দূর থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় মিরপুর সড়কে চলাচলকারী সাত-আটটি যানবাহনের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, ঢাকা কলেজের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা এক জোট হয়ে মার্কেটের সামনে রাখা তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চন্দ্রিমা মার্কেটের ওপর থেকে কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকাল ৪টার পর থেকে নিউমার্কেট থেকে গাবতলীমুখী সড়কে (মিরপুর সড়ক) যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে বসে থাকার পর অনেকেই নেমে হেঁটে চলে যান গন্তব্যে। পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। তবে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দুই ঘন্টা সময় লেগে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আহতাবস্থায় ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থীসহ ছয় জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
 
ঢাকা কলেজের আশেপাশে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে কেনাকাটার নাম করে কম মূল্যে জিনিসপত্র কিনতে চায়। ঐ সময় ব্যবসায়ীরা জিনিস বিক্রি করতে না চাইলে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হামলা চালায়। তারা দোকান জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এমনকি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হামলা চালায়।
 

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে মার্কেটের নেতা ও কলেজের ছাত্র নেতাদের অনুরোধ করা হলে তারা নিজেদের অবস্থানে ফিরে যান। পুলিশের অ্যাকশন নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি।