একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি দলটির নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
শনিবার ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’র উদ্যোগে মহাখালী বাস টার্মিনালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শাজাহান খান বলেন, যেসব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হচ্ছে, ওদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনতে হবে। আমাদের বহু সম্পদ পাকিস্তানে রয়েছে। সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ওদের যে সম্পদ- দলের ও নেতাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুরু করা লড়াইয়ে স্বাধীনতা এলেও সে লড়াই এখনো শেষ হয়নি।এখন সেই লড়াই শেষ করার দায়িত্ব পড়েছে আমাদের ওপর।
নৌমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে পাকিস্তানের উদ্বেগ ও গণহত্যা অস্বীকারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে- তারা এখনো পরাজয়ে গ্লানি ভুলতে পারেনি। পাকিস্তানের চর রাজাকার ও জামায়াত- এই দেশে বসে পাকিস্তানের পক্ষে আমাদের দেশের ক্ষতি করতে এখনো তৎপর।
শাজাহান খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিদেশীয় চুক্তির আওতায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক ওই ১৯৫ সেনাকে নিজ দেশে বিচারের মুখোমুখি করার শর্তে ফেরত নেয় পাকিস্তান। এরপর ৪৪ বছর পার হলেও তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়নি দেশটি। পাকিস্তানি ওই সেনাদের বিচারের দাবিতে বিজয়ের এই মাসে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’ এর ব্যানারে গড়ে তোলা হয়েছে আন্দোলন। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি প্রতীকী আদালতে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার'র সদস্য সচিব অঞ্জন রায় বক্তব্য রাখেন।
