আবারো ভারতে প্রাঙ্গণেমোর-এর নাটক ‘শেষের কবিতা’

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:৩৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীর ঋত্বিক সদন মঞ্চে মঙ্গলবার ‘শেষের কবিতা’ মঞ্চায়িত হবে।
 
কল্যাণী নাট্যকেন্দ্র’র আয়োজনে ‘কল্যাণী  নাট্যকেন্দ্র’র একবিংশতিতম নাট্যোৎসব’-এ আমন্ত্রিত হয়ে প্রাঙ্গণেমোর ‘শেষের কবিতা’ নাটক নিয়ে ঢাকা থেকে রবিবার ভারতের কল্যাণী যাচ্ছে।
 
শেষের কবিতা নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছিল কলকাতার পূর্ব-পশ্চিম নাট্যদল আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট মধূসুদন মঞ্চে। এছাড়া এ নাটকটি আরো মঞ্চায়িত হয়েছে ভারতের মুম্বাই ও শান্তি নিকেতনে। শেষের কবিতা নাটকের দর্শকপ্রিয়তার কারণেই নাটকটি আবারো আমন্ত্রিত হয়ে ভারতে মঞ্চায়িত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাস থেকে এর নাট্যরূপ দিয়েছেন অনন্ত হিরা আর নির্দেশনা দিয়েছেন নূনা আফরোজ। ‘শেষের কবিতা’ নাটকে অভিনয় করেছেন- নূনা আফরোজ, অনন্ত হিরা, রামিজ রাজু, শুভেচ্ছা, ইস্টের সুমী, আউয়াল রেজা, সরোয়ার সৈকত, মাইনুল তাওহীদ, চৈতী, কারিমা, জাহিদ, আশা, রিগ্যান, সীমান্ত, মনির, বিপ্লব, ঊষা।
 
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৬৭ বছর বয়সে লেখা বহুলপঠিত একটি বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস। উপন্যাসের শেষ দিকে নায়িকা একজনকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন জানিয়ে নায়ক অমিত রায়কে একটি পত্র পাঠান। যেটি উপন্যাসের ‘শেষের কবিতা’। এ কবিতাটির আবেদন ভাবাবেগ-রস একেক বয়সে একেক রকম।
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? 
তারি রথ নিত্য উধাও। 
জাগিছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন 
চক্রে পিষ্ট আধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন। 
ওগো বন্ধু, 
সেই ধাবমান কাল 
জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল 
তুলে নিল দ্রুতরথে 
দু'সাহসী ভ্রমনের পথে 
তোমা হতে বহু দূরে। 
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে 
পার হয়ে আসিলাম 
আজি নব প্রভাতের শিখর চুড়ায়; 
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায় 
আমার পুরানো নাম। 
ফিরিবার পথ নাহি; 
দূর হতে যদি দেখ চাহি 
পারিবে না চিনিতে আমায়। 
হে বন্ধু বিদায়। 
কোনদিন কর্মহীন পূর্ণো অবকাশে 
বসন্তবাতাসে 
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস, 
ঝরা বকুলের কান্না ব্যাথিবে আকাশ, 
সেইক্ষণে খুজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে 
তোমার প্রাণের প্রানে, বিস্মৃতি প্রাদোষে 
হয়তো দিবে সে জ্যোতি, 
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নে মুরতি। 
তবু সে তো স্বপ্ন নয়, 
সব চেয়ে সত্য মোর সেই মৃত্যুঞ্জয় - 
সে আমার প্রেম। 
তারে আমি রাখিয়া এলাম 
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশ্যে। 
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে 
কালের যাত্রায়। 
হে বন্ধু বিদায়। 
তোমায় হয় নি কোন ক্ষতি। 
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি 
যদি সৃষ্টি করে থাক তাহারি আরতি 
হোক তবে সন্ধ্যা বেলা- 
পূজার সে খেলা 
ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লান স্পর্শ লেগে; 
তৃষার্ত আবেগবেগে 
ভ্রষ্ট্র নাহি হবে তার কোন ফুল নৈবদ্যের থালে। 
তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে 
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর ত'ষায় 
তার সাথে দিব না মিশায়ে 
যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে। 
আজও তুমি নিজে 
হয়তো বা করিবে বচন 
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নবিষ্ট তোমার বচন 
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়। 
হে বন্ধু বিদায়। 
মোর লাগি করিয় না শোক- 
আমার রয়েছে কর্ম রয়েছে বিশ্বলোক। 
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই, 
শুন্যেরে করিব পূর্ণো, এই ব্রত বহিব সদাই। 
উ'কন্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে 
সে ধন্য করিবে আমাকে। 
শুক্লপখক হতে আনি 
রজনী গন্ধার বৃন্তখানি 
যে পারে সাজাতে 
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে 
সে আমারে দেখিবারে পায় 
অসীম ক্ষমায় 
ভালমন্দ মিলায়ে সকলি, 
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি। 
তোমারে যা দিয়েছিনু তার 
পেয়েছ নিশেষ অধিকার। 
হেথা মোর তিলে তিলে দান, 
করূন মুহূর্তগুলি গন্ডুষ ভরিয়া করে পান 
হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম, 
ওগো নিরূপম, 
হে ঐশ্বর্যবান 
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান, 
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়। 
হে বন্ধু বিদায়।
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান, 
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়। 
হে বন্ধু বিদায়।