তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তায়িপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কট্টরপন্থী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল হামাসের নেতা খালেদ মিশাল। শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই নেতা মিলিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সূত্রগুলো।
ইসরায়েল ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যেকার পাঁচ বছরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার কথা ঘোষণার এক দিন পরই কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী হামাস নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এরদোগানের দপ্তরের এক সূত্র জানায়, আলোচনাকালে তুর্কি প্রেসিডেন্টের কাছে ‘ওই অঞ্চলের’ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন মিশাল। তবে তিনি এর বাইরে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কট্টর ইসলামপন্থী হামাস ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১০ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এরদোগান হামাসকে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সংগ্রামরত প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দল’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, সুইজারল্যান্ডে উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর ইসরায়েল-তুর্কি মিত্রতা স্বাভাবিক করার পক্ষে একটি চুক্তি হয়েছে।
অপরদিকে তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এখনো বাকি আছে। তবে তাতে বেশি সময় লাগবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।
তুরস্কের সঙ্গে একসময় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রতা ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে গাজার উপকূলে ইসরায়েলি নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকালে বেসামরিক তুর্কি আন্দোলনকারীদের জাহাজে হামলা চালায় ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা। এতে ১০ তুর্কি আন্দোলনকারী নিহত হন।
এ ঘটনার পর দেশ দুটির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলকে ক্ষমা চাইতে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ও গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানায় তুরস্ক।
অপরদিকে তুর্কিতে হামাসের তৎপরতার কমানোর দিকেই নজর ইসরায়েলের। সুইজারল্যান্ডে ইসরায়েল-তুরস্কের প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, তুর্কিতে বসবাস করা হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা সালেহ আল আরোরিকে তুর্কিতে নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা। রয়টার্স।
