বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, এই আসর থেকে বাংলাদেশ যেন কিছু নতুন তারকা পায়, সেটাই প্রার্থনা। সেই তারকা খোঁজার দায়টা সবচেয়ে বেশি ছিলো ফারুক আহমেদের ওপর। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক তেমন চোখ নিয়েই দেখেছেন বিপিএল। আর আসর শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজের মূল্যায়নটা জানাচ্ছেন। ফারুক আহমেদের একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—
বিপিএল কেমন দেখলেন?
একজন ক্রিকেট দর্শক হিসেবে বেশ ভালো। বেশিরভাগ ম্যাচ খুব উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। যাকে বলে সাকসেসফুল টুর্নামেন্ট, সেটা হয়েছে। ভালো লেগেছে। আমাদের জন্য একটা খুব ভালো হয়েছে। টাইমিংটা খুব ভালো ছিলো। আমরা সামনে দুটো বড় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলবো। সবসময় বলি, এই ফরম্যাটে খেলা হয় না। এবার সেটা বলার অন্তত উপায় থাকছে না।
শুধু সাবেক অধিনায়ক বা ক্রিকেট দর্শক হিসেবে তো দেখলে চলেনি। প্রধান নির্বাচক হিসেবেও চোখ রাখতে হয়েছিলো নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ, সেই দৃষ্টিতেই আসলে বেশি দেখতে হয়েছে। সেখান থেকে বলতে পারি, এটা অনেক বেশি বোলারদের টুর্নামেন্ট ছিলো। টুর্নামেন্টে মাঝে বড় সময় রান হয়নি। তার একটা কারণ ছিলো উইকেটে টানা খেলা হওয়া। আরেকটা ব্যাপার হলো, মৌসুমটা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট এই সময় করা সম্ভব না। আমি মনে করি, এটাও প্রস্তুতি হিসেবে খারাপ না।
আপনাদের ওপর এসব টুর্নামেন্টে একটা আশা থাকে যে, নতুন কাউকে খুঁজে পাবেন। পেলেন তেমন কাউকে?
দেখুন, নির্বাচক কমিটি হিসেবে আমরা কিন্তু একটু ভিন্ন স্টাইলে কাজ করি। একটা টুর্নামেন্টে কেউ ভালো করলো, আর তাকে সরাসরি জাতীয় দলে নিয়ে এলাম, এভাবে আমরা কাজ করি না। আমরা তরুণদের ক্ষেত্রে চোখ রাখি। তারপর এরকম আসরে সে বিশেষ ভালো করলে পরের ধাপের জন্য বিবেচনা করা হয়।
আবু হায়দার রনি কী সেরকম একজন?
অবশ্যই। রনি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ভালো খেলছিলো। তার অসাধারণ কিছু পারফরম্যান্স আছে। আমরা তাকে দেখছিলাম। সে দারুণ করেছে। আমি ইম্প্রেসড। সে খেলার গুরুত্বপূর্ণ সব সময়ে বল করেছে; সফল হয়েছে। যেভাবে বল বের করেছে, আবার ভেতরে ঢুকিয়েছে; ভালো। এখন দেখা যাক। সামনে ক্যাম্প আছে। তাকে কিছু সময় দিতে হবে।
জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে লিটন, সৌম্য, বিজয় খুব ভালো করতে পারেনি। এটা কী বিশেষ চিন্তার ব্যাপার?
দুশ্চিন্তা আমি বলবো না। ফর্ম খারাপ যেতে পারে। ওরা ভালো খেলোয়াড়, তা নিয়ে তো সন্দেহ নেই। খারাপ ফর্ম যে কোনো সময় আসতে পারে। সে সময়ই মূল সাপোর্টটা দরকার। আমরা এখন বরং ভাববো, কিভাবে ওদের ফর্মে ফেরানো যায়। ফর্ম খারাপ হলেই বাদ দেয়া নয়, তাকে নিয়ে কাজ করাটা বেশি জরুরি। আমি আশাবাদী ওরা নিজেদের খুঁজে পাবে দ্রুত।
একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, এবার বিপিএলে একটু সিনিয়র বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দারুণ পারফরম করেছে। ইমরুল তো আপনার দলেই ছিলো। এ ছাড়া শাহরিয়ার নাফীস, অলক কাপালি, এমনকি জুনায়েদ-অমিও ভালো পারফরম করেছে। এটা কী কাজটা কঠিন করে দিচ্ছে?
আমি বলবো, এটা আমাদের জন্য সুখবর। যদিও নির্বাচক হিসেবে আমাদের কাজটা কঠিন হয়ে যায়। একজন সিনিয়র পারফরম করার অনেক অর্থ আছে। প্রথমত আমরা বিশ্বাস করি, ইতিমধ্যে এই যেসব সিনিয়ররা আন্তর্জাতিক এক্সপোজার পেয়ে গেছে, তাদের মূল্যায়নটা আমরা করবো। কারণ, এরা একটা পরীক্ষায় আগেই পাস করে ফেলেছে। ফলে তাদের বাতিল করার কারণই নেই। আবার একই সাথে মাথায় রাখতে হবে, কে কার সাথে লড়াইটা করবে। যার সাথে এই সিনিয়র লড়াই করছে, সেও রানে থাকলে তো অভিজ্ঞ বলেই তাকে সুযোগ দেয়া কঠিন।
আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?
ধরো শাহরিয়ার নাফীস আর তামিম ইকবাল। দু’জনই ধরা যাক, একই রকম রান করলো। এখন তামিম জাতীয় দলে খেলার মধ্যেই আছে। আবির সেটা নেই। ফলে তামিমকে বাদ দিতে গেলে নাফীসকে অনেক ভালো খেলতে হবে। আবার একই ধরনের খেলোয়াড় আমরা সর্বোচ্চ কতোজন রাখতে পারবো, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই সব ক’জন ওপেনার নিয়ে দল করতে পারবো না!
সোজা কথায়, কাজটা দিনকে দিন কঠিন হচ্ছে।
তা তো বটেই। আপনারা হয়তো ভাবেন, যেহেতু ছেলেরা পারফরম করছে, কাজটা তাই সহজ হচ্ছে। কিন্তু আমরা তো রেডিমেড দল পাই না। এরকম অনেক হিসেব মিলিয়ে দল করতে হয়। তবে ওভারঅল এই কঠিন কাজটাই আমরা উপভোগ করি।
