রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:৩৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এটিএম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ভাষা বিভাগের (উর্দু) প্রথমবর্ষের ছাত্রী এ বিষয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
 
অন্যদিকে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল রবিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, প্রগতিশীলতার নাম ধারণ করে কিছু শিক্ষক অপকর্ম করে যাচ্ছেন। শিবির প্রকাশ্যে না আসতে পারলেও এসব শিক্ষক শিবিরের প্রেতাত্মা হয়ে কাজ করছেন। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে কোনো মা-বোনের সম্মানহানি বরদাশত করবে না।
 
ছাত্রীর অভিযোগে বলা হয়, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের গণরুমে থাকতাম। গত ২৩ নভেম্বর হলের সিটের জন্য প্রাধ্যক্ষের কক্ষে যাই। এ সময় হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইয়াসমিন এবং আবাসিক শিক্ষক এটিএম রফিকুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি তাদের একাডেমিক পরিচয় জানালে তারা আমাকে সিট প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কর্মসূচি শেষে হলে ফেরার পথে হল গেটে রফিকুল ইসলাম স্যার আমাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে দেখা করতে বলেন। আমি রুমে গিয়ে দেখি স্যার একা আছেন এবং প্রথমেই আমাকে বলেন, ‘শুধু ছাত্রলীগ করলেই কি হলে সিট হবে? হলের সিটের জন্য আমাদের কাছেই আসতে হবে।’ এসময় তার কথাবার্তা এবং শারীরিক প্রকাশভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ। এ সময় আমি কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে আসি।’
 

তবে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১৬ ডিসেম্বর মেয়েটির সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। ওই মেয়েকে সিট না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।’