দুই দিনেও খোঁজ মেলেনি সাংবাদিক সজীবের

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:৫৭
 
দুই দিনেও খোঁজ মেলেনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক আওরঙ্গজেব সজীবের। ঘটনাটি নিয়ে সজীবের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম নিশি সোমবার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
 
সজীবের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের খাসকান্দি এলাকায়। ঢাকার বকশী বাজার কমলদাহ্ উর্দ্দু রোডে নিজস্ব বাড়িতে স্ত্রী মোর্শেদা, দুই শিশু সন্তান নুর মোহাম্মদ সোহান ও ইসমাত আরা সাবাকে নিয়ে থাকতেন। সজীব ভোরের ডাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলাভিশন, সময়, ইনডিপেনডেন্টসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিএমআরএ) সাবেক সভাপতি। তার বাবার নাম মৃত নুর মোহাম্মদ। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সজীব তৃতীয়।     
 
নিখোঁজ সজীবের স্ত্রী মোর্শেদা বলেন, রবিবার সকাল সাতটার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। পরে লোকমুখে শুনতে পান তার স্বামী মুন্সিগঞ্জের কাছে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, তার স্বামী হঠাত্ মুন্সীগঞ্জে যাবে কেন? কেন সে ঝাঁপ দেবে? এর পিছনে অন্য কোনো কারণ আছে।
 
সজীবের সহকর্মীরা জানায়, রবিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে একটি সরাসরি সম্প্রচার করা সংবাদ প্রচারিত হয়। ওই টেলিভিশনের মেডিকেল প্রতিনিধি হিসেবে সজীব ঐ সংবাদ প্রচারে সহযোগিতা করেন। পরে সজীব সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে আরেক সহকর্মী সংবাদ সম্পর্কে জানতে ফোন করলে সাথী নামের এক মেয়ে সজীবের ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘আপনি যাকে ফোন করেছেন উনি ১০ মিনিট আগে মোবাইল ও কাগজপত্র রেখে ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী তাকওয়া লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।’
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাংবাদিক বুলবুল চৌধুরী বলেন, চাঁদপুরগামী তাকওয়া লঞ্চটি রবিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছাড়ে। কিন্তু ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত সজীব ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন। তাহলে সজীব কিভাবে ওই লঞ্চে গেলেন কিংবা তার মোবাইল ও কাগজপত্র কিভাবে ওখানে গেলো?
 
তাকওয়া লঞ্চটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, টঙ্গীতে বসবাসরত শাকিল নামের এক ছেলেও তাকওয়া লঞ্চযোগে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। সজীব তার সিটের পাশেই বসে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় শাকিল লঞ্চের ছাদে ঘুরতে যায়। পরে নিচে এসে শোনেন, ওই লোকটি (সজীব) কাগজপত্র রেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ সময় শাকিল লঞ্চের সুপার ভাইজার ফরহাদকে বিষয়টি জানায় এবং সজীবের মোবাইল ও সাংবাদিকতার আইডি কার্ড দেন। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর থামলে সুপার ভাইজার ফরহাদ শাকিলকে নিয়ে সজীবের মোবাইল ও কাগজপত্র লিখিতভাবে চাঁদপুর নৌ পুলিশের কাছে জমা দেয়। 
 
চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এএসআই এরশাদ আলম বলেন, লঞ্চের সুপার ভাইজার ও শাকিলের কথা অনুযায়ী তারা ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ওখানকার লোকজনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে তারা জানায়। নির্দিষ্ট জায়গা বলতে না পায়ায় তারা ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালাননি।
 
নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেসুর রহমান বলেন, সজীবের দুইটি মোবাইল ফোনের কললিষ্টের জন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। ঐ কললিস্ট হাতে পেলে যাচাই করে জানা যাবে যে সাংবাদিক সজীব ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কখন ও কিভাবে গিয়েছেন।
 
শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, সজীবের মোটরসাইকেলটি ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়িতে ছিল। প্রতিদিন মোটরসাইকেলের চাবি সজীবের কাছে থাকে। কিন্তু রবিবার চাবিটি মোটরসাইকেলের বক্সে পাওয়া যায়। মোটরসাইকেলের সঙ্গে চাবি রেখে যাওয়ার বিষয়ে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রহস্যে ঘেরা সজীবের নিখোঁজের বিষয়ে দুুপুরে শাহবাগ থানার এসআই হারুন সজীবের বাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয় রেকর্ড করেছেন।