অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি একশ’ কোটি ডলারে উন্নীত হওয়া সম্ভব বলেও মনে করছেন তারা। গতকাল সোমবার শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এ সম্ভাবনার কথা জানান অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রতিনিধিরা। রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ছে। ২০১০ সালে ৩৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে তা ২৪০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ সময় চেম্বারের নেতারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক ইত্যাদি রপ্তানি করছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করলে অস্ট্রেলিয়ায় চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রসারে চেম্বারের পক্ষ থেকে একক পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে তারা শিল্পমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশে গুণগতমানের চামড়াজাত পণ্য তৈরি ও মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ আনতে চেম্বার নেতাদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাসায়নিক সার, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, আইটি, ওষুধ ও চামড়া শিল্পখাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। উদীয়মান এসব শিল্পখাতেও অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। দেশটি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে চিনি শিল্পে দেশটির বিনিয়োগ আনতে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান, সহসভাপতি নেসার মাকসুদ খান, মহাসচিব শাকিল আহমেদ খান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মহীউদ্দিন আহমেদ মাহিন উপস্থিত ছিলেন।
