বিশ্বের বিপিও কাজের পরবর্তী গন্তব্য হবে বাংলাদেশ: জুনাইদ আহমেদ পলক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:৩৪

বিশ্বের বিপিও(বিজনেস প্রসেস আউটসোসিং) কাজের পরবর্তী গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। ‘বিপিও সামিট ২০১৫’ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গত ৯-১০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং-এর উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় বিপিও সামিট-২০১৫। সামিট চলাকালীন সময়ের কার্যক্রম সবার সামনে তুলে ধরতে আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আজ বুধবার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি খাত। বাংলাদেশের বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা ১০০ ভাগের বেশি, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৩০ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই খাতে ১ বিলিয়ন ডলার আয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ২৫ হাজার লোক এই সেক্টরে যুক্ত আছে, আমরা এই সংখ্যা শিগগিরেই ১ লক্ষ দেখতে পারবো বলে আশা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাক্য’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, মহাসচিব তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।

বাক্য মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এই সামিটের মাধ্যমে আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই সেক্টরে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে ভালো একটি ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছি, আমাদের সক্ষমতার জায়গাগুলো দেখানোর চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরের সাফল্যের গল্পগুলো মানুষকে জানানোর চেষ্টা করেছি। দেশের তরুণদের কাছে এই সেক্টরকে অন্যতম একটি কর্মক্ষেত্র হিসাবে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি জানান, দুই দিনের এ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ১২টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে দেশী বিদেশী ৭৪ জন বিশেষজ্ঞ বক্তা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং ৬০টি দেশ থেকে আগ্রহীরা অনলাইনে সম্মেলন সংক্রান্ত খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মেলনের ২ দিনে ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী সরাসরি সম্মেলন পরিদর্শন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন বিপিও সেক্টরে সবচেয়ে ভালো করেছে। বিপিও সেক্টরে সারা বিশ্বের ৫০০ বিলিয়ান ডলারের মধ্যে ভারত ৮০ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৬ বিলিয়ন এবং শ্রীলঙ্কা ২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। বর্তমানে বাংলাদেশও দিনদিন এই খাতে এগিয়ে যাচ্ছে।

সম্মেলন আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।