ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য সাভার নিরাপদ নয় মহাসড়কও

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৩৩

সাভার ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অলিগলির মোড়ে ছিনতাই প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাদ যাচ্ছে না সড়ক-মহাসড়কও। গভীর রাতে সড়কে চলন্ত গাড়িতে পাথর বা ইটের টুকরা নিক্ষেপ কিংবা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে গতিরোধ করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব।

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশ এলাকায় একাধিক বৃহত্ শপিংমলসহ ব্যাংক, বীমা, দোকানপাট, স্বর্ণের দোকান, বাজার, স্কুল, কলেজ ও সরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে এ স্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকাটি পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের আখড়ায়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক যুবক ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আর একটু সন্ধ্যা বা রাত হলেই বিভিন্ন গলির মোড়ে অবস্থান নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয় তারা।

গত বুধবার ভোরে সাভারের সিএন্ডবি-আশুলিয়া সড়কের অরুনা পল্লীর সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে মাছ ভর্তি ট্রাকের গতিরোধ করে মাছ ব্যবসায়ীদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইলফোনসহ মালামাল লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় এক মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় তারা। গত সোমবার ভোরে আশুলিয়ার ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন চালা এলাকায় বেশ কয়েকটি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সন্ত্রাসীরা চালক ও যাত্রীদের মোবাইল ফোন, টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ বছরের শুরুর দিকে ভূমিমন্ত্রীর গাড়িও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, উলাইল, পাকিজা মোড়, পল্লী বিদ্যুত্, রাঙ্গাবন নার্সারিসহ প্রায় ২০ টি স্পটে ছিনতাইকারীদের বিচরণ রয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে এ চক্রটি ৩/৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে। দীর্ঘদিন যাবত্ তারা একের পর এক ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা করে বেড়ালেও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা মার্কেটে আসার পথে কিংবা ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছে। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেট ও সিটি সেন্টারের আশেপাশে উত্ পেতে বসে থাকে ছিনতাইকারী চক্রটি। সুযোগ বুঝে ছিনতাই করেই তারা গলি পথে দ্রুত সটকে পড়ে। একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এ চক্রটি মাদকসেবী। নেশা করে মার্কেটের আশেপাশে রাস্তায় তাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে কেউ হাতেনাতে ধরা পড়লেও ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরাই এসে চড় থাপ্পড় মেরে তাড়িয়ে দেয়, যাতে পুলিশের হাতে না পড়ে।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ভুক্তভোগীদের পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি পরামর্শ দেন।