নারীর ঘরের কাজকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৩

প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বাইরে নারীর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত বিশেষত সন্তান লালন-পালনসহ গৃহের যাবতীয় কাজ জিডিপি বা মোট দেশজ উত্পাদনে হিসাবভুক্ত করার উপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে ঘরে বাইরে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের উপর সহিংসতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তারা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে তারা এ ইস্যুটি সামনে আনেন। ‘জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেটিং এন্ড ফরমাল রিকগনিশন অব উইমেনস আনকাউন্টেড ওয়ার্ক’ শীর্ষক এ সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে সংলাপে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধগুলো উপস্থাপন করেন যথাক্রমে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. সায়েমা হক বিদিশা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক শারমিন্দ নিলোর্মী ডালিয়া।

এ সময় বক্তারা বলেন, নারীর অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজকে হিসাবভুক্ত করা হলে জিডিপিতে নারীর কাজের অবদান তিনগুণ বাড়বে। সরকারের ছয়টি মন্ত্রণালয়ে নারীর  জন্য বরাদ্দ ও তার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য এ সময় উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, নারীর জন্য যে ধরনের বরাদ্দের কথা বলা হয়, বাস্তবে নারীর প্রাপ্তি অনেক কম। শারমিন্দ নিলোর্মী ডালিয়া তার প্রবন্ধে বলেন, কল্যাণমূলক কাজে সরকারের বরাদ্দের ৪৩ শতাংশই ধনীদের কাছে চলে যায়। এছাড়া তিনি হিসাব করে দেখিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য নিরসনে খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারেনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, নারীর ঘরের কাজকে হিসাবভুক্ত করার পাশাপাশি তাদের উপর এ ধরনের কাজের চাপ কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসা দরকার। শাহীন আনাম বলেন, নারীর ঘরের কাজকে আর্থিক মূল্য তথা জিডিপিতে স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে-বাইরে তাদের মর্যাদা বাড়ান। তাহলে সহিংসতা কমবে। এ সময় ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি অ্যাসা টরকেলসনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

‘সরকার কালা-বোবার ভান

করে, আসলে তা নয়’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকার অনেক সময় কৌশলগত কারণে চুপ থাকার ভান করে। সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনাকারীদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সরকার অনেক সময় কালা-বোবার ভান করে- আসলে তা নয়। অনেক অন্ধকার কানা গলি এই সমাজে আছে; কিন্তু আমরা (সরকার) কাজ করছি পরিবর্তনের জন্য।

এ সময় তিনি বলেন, জিডিপির মাপজোক নির্মোহভাবে করতে পারলে এর আকার বর্তমানের চাইতে আরো বেশি দেখাতো। নারীর ঘরের কাজসহ অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজকে   হিসাবের মধ্যে আনতে অর্থনীতিবিদরা হিসাবপত্রের কৌশল বের করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।