রূপপুর নিয়ে টিআইবি’র সতর্ক আশাবাদ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ২০:৪০
 
পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনকে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একইসাথে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ব্যয়বহুল আখ্যা দিয়ে, চুক্তির প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিশদ তথ্য প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় টিআইবি।
 
রবিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার পারমাণবিক চুল্লিগুলো ব্যাপকভাবে, এমনকি খ্যাতিসম্পন্ন রুশ বিশেষজ্ঞের মতেও অনিরাপদ ও অনির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানাধীন অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট দুর্ঘটনায় দায় নেয়ায় যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নয়।
 
এজন্য আমরা সরকার ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে জনগণের অবগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে জনগণের জীবন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উপর সম্ভাব্য ঝুঁকিসহ পরিবেশগত কোন নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর দায় নিশ্চিত করতে চুক্তিতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা, অর্থায়নের শর্তাবলীসহ ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের অর্থায়ন ব্যবস্থা, সরবরাহকারীর তুলনায় বাংলাদেশের জনগণের সম্ভাব্য লাভ এবং বোঝা/দায়ের বিবৃতি এবং সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী লভ্য দক্ষতা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার বিচারে এ চুক্তিটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে কিনা সেসব তথ্য প্রকাশ করার আহবান জানাই।
 
ড. জামান আরো বলেন, এ বছরের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী উক্ত দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মোট ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখিত হলেও মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় তিন গুণেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে অনেক ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে। যেহেতু শেষ বিচারে বাংলাদেশের জনগণকেই এই প্রকল্পের বোঝা বইতে হবে সেহেতু এ ব্যাপারে সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য জানার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।