এমন কিছু খাবার আছে যা দেখে তার ওপর আগ্রহ তৈরি হয় না, সেগুলো যতই পুষ্টিকর হোক না কেন। আবার এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো পুষ্টিকর না হলেও অনেক সময় মানুষের সেই খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। মানুষের চিরাচরিত এই অভ্যাস সম্পর্কে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই নাকি এটি ঘটে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, খাবারের স্বাদের পার্থক্যের বেশ কিছু কারণ রয়েছে যার পেছনে জিনগত বিষয় ছাড়াও রয়েছে মানসিকতা ও জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, স্বাদ এবং গন্ধের বিষয়টি ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করে। এজন্য দায়ী আসলে আমাদের ডিএনএ। আমাদের জেনেটিক কোড ঠিক করে দেয় কীভাবে কোন বার্তাটি নিয়ে আমাদের মস্তিষ্ক সেটি কীভাবে প্রক্রিয়া করবে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রতিটি খাবারের ঘ্রাণ আমাদের একেক জনের ওপর একেকরকম প্রভাব ফেলে এবং আমরা প্রত্যেকে আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখাই।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা ২০০৪ সালে আবিষ্কার করেন, ঘ্রাণ শনাক্তের বিষয়টি আমাদের জিনোমের ভেতরে রয়েছে, যা অন্যসব বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ। এর ফলে ঘ্রাণ শনাক্তে একেকজন একক রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ফলে কেন সবাই একই ধরনের খাবার পছন্দ করেন বা অপছন্দ করেন, সেটার ব্যাখ্যাও সহজে মেলে।
পৃথিবীতে প্রথম দিকে মানুষরা তাদের ঘ্রাণ শনাক্তের ক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে তারা গন্ধ শুকেই ভালো ফলটি শনাক্ত করতে পারতেন আর খারাপটিকে বাদ দিতেন। খারাপ গন্ধ শনাক্ত করতে পারার এই গুণাবলীর মাধ্যমেই তারা ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত খাবার পরিহার করতে পারতেন। যা কিনা মানুষের জিনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বর্তমানের আধুনিক মানুষের মধ্যেও।
মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় যে খাবার খেয়ে থাকেন, সেগুলো শিশুর স্বাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে শিখে থাকি কোন খাবার পছন্দ করতে হবে আর কোনটি অপছন্দ করতে হবে। এটা শুরু হয়ে যায় মানব শিশু মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই। দুই হাজার বছরের পুরনো ফরাসি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের খাবার থেকেই ঘ্রাণশক্তি তৈরি হয়।
শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় অনেক খাবার অপছন্দ করতে থাকেন। তখন অভিভাবকরা হয়তো ভাবেন, তাদের সন্তান কেন এই খাবারটি পছন্দ করেন কিংবা অপছন্দ করেন। আসল ব্যাপারটি হলো, নতুন কোনো কিছুই তারা পছন্দ করে না। অনেক সময় এই অপছন্দ পরবর্তী জীবনেও থেকে যায়। বিশেষ করে কোনো খাবারের কারণে যদি আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন সেটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়। -বিবিসি
