সরকারি হিসাবরক্ষণ অফিসের ৩৩ খাতে দুর্নীতি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৬

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ “হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহের” ৩৩টি খাতে দুর্নীতির উত্স চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ‘দুর্নীতি সংক্রান্ত দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম অনুসন্ধান চালিয়ে দুর্নীতির এসব উত্স চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২১ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এই প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের রিপোর্টে মোটা দাগে ৩৩টি দুর্নীতির উত্স চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এ সমস্যা নিরসনে রয়েছে ২১ দফা সুপারিশ। যেমন পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। মানুষের ভিজিট যেখানে বেশি সেখানে দুর্নীতির সুযোগও বেশি। অর্থমন্ত্রীর সততা নিয়ে আমরা গর্ব করি। আমার বিশ্বাস অর্থমন্ত্রী এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দুদকের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করবো। অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হওয়ার আগে প্রতিরোধ করবো। আমার মন্ত্রণালয়ে বড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত কেউ যেন দুর্নীতি না করতে পারে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।  তিনি আরো বলেন, ৩৩ খাতে দুর্নীতি হয় এমন নয়। এসব খাতে সব কাজ যেন স্বচ্ছতা নিয়ে হয় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো। আমরা হারাম কাজ থেকে দেশকে মুক্ত করবো।

দুদকের রিপোর্টে দুর্নীতির সম্ভাব্য যে ৩৩টি খাতের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে - অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীর বদলিজনিত কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর হিসাবরক্ষণ দপ্তর কর্তৃক শেষ বেতনপত্র (এলপিসি) নতুন কর্মস্থলে পাঠাতে বিলম্ব, কর্মচারীদের সার্ভিস বুক ভেরিফিকেশন, এরিয়ার বিল, পে-ফিক্সেশন, জিপিএফ অগ্রিমের অর্থ উত্তোলনসহ নানা ধরনের বিল, সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকসহ কর্মচারীদের পেনশন সংক্রান্ত আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) প্রাপ্তি, ভ্রমণ ভাতার বিল ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খাতের বিল, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিল, পে-রোলে নাই এমন ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ প্রভৃতি। এছাড়া ব্যাংক কর্তৃক পরিশোধিত মাসিক পেনশনের টাকা হিসাব অফিস কর্তৃক পুনর্ভরণের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ভুয়া বিল বা ডুপ্লিকেট বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি ও আত্মসাত্ করা হয়ে থাকে। সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়মিত বিলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয় না। সঠিক বরাদ্দ পাওয়ার পরেও অর্থনৈতিক কোড নিয়ে বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি সৃষ্টি করে ঘুষ দাবি করা হয়।

দুদকের সুপারিশে সিজিএ কার্যালয় কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ভিডিও কনফারেন্স প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।  এছাড়া তদারকি ব্যবস্থা জোরদার, ই-ফাইলিং কার্যক্রম গ্রহণ অর্থাত্ সমগ্র অফিস অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের বিল ইলেকট্রনিক্যালি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং কতিপয় ক্ষেত্রে ‘সেম ডে সেম সার্ভিস’ চালুকরণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে রিপোর্টে মত প্রকাশ করা হয়েছে।