বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আর আগামী সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে রিপোটার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে সূচনা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নির্বাচনকেই হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাকে অংশ না নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না এসে বড় ভুল করেছে। আবার নির্বাচন প্রতিহত করতে চেয়েও ব্যার্থ হয়েছে। সেদিন নির্বাচন না করা গেলে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের মতো পরিস্থিতিতে চলে যেতো। থাইল্যান্ড নির্বাচন করতে না পারায় সে দেশে এখন সেনাশাসন চলছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিজয়ের মাসে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বিতর্ক তুলে পরাজিত পাকবাহিনীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এ বিতর্ক বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ করে না। এ ধরনের মন্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।
আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতো না। আর বাংলাদেশকে এখন ড্রুন হামলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা মানবতাবাদী অপরাধের বিচারের জন্য। কিন্তু এটি কখনোই সফল হবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নানা সাফল্য তুলে ধরেন বলেন, জিএসপি সুবিধা না দেয়ার পরও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথম রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। সব শ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ে সেল করা হয়েছে। যেখানে ব্যবসায়ীর যে কোন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। পদ্মা সেতু হচ্ছে। কর্ণফুলির তলদেশে টানেল হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ ঈর্ষণীয় পর্যায়ে। রপ্তানি, কৃষি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আইনশৃংখলা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। যুক্তরাষ্ট্রের বারাক ওবামা, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু, নবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ইজ এ মিরাকেল।’
