বর্তমানে দেশে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এখনো পর্যন্ত এসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়লে রমজান মাসে ছোলা, মশুর ডাল, মটর, সয়াবিন, চিনির মতো অতি চাহিদাপূর্ণ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এদিকে সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খাতুনগঞ্জে সিন্ডিকেট চক্র চিনির দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রতিমণে প্রায় ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পাইকারি বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আমদানিকারক জানান, ইতোমধ্যে ছোলাসহ অনেক পণ্য দেশে পৌঁছেছে। বাকি পণ্য রমজান মাসের আগেই দেশে পৌঁছে যাবে। তবে এবার ব্যবসায়ীরা হিসাব নিকাশ করে আমদানি করছে। কারণ গত বছর চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি হওয়ায় লোকসান দিতে হয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেছেন।
সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খাতুনগঞ্জে চিনির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গত এক মাসের মধ্যে পাইকারি বাজারে চিনির দাম প্রতিমণে প্রায় ৮০ টাকা বেড়েছে বলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে চিনির ৯০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এস আলম গ্রুপ। গতকাল মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে চিনি প্রতিমণ ১৭৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ ১৫/২০ দিন আগেও ১৭১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলাসহ ডাল জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দেশের বাজারেও ডাল জাতীয় পণ্যের দাম ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ফলে রমজান মাসে দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলা প্রতিটন ৬৬০ থেকে ৭২০ ডলার মূল্যে বুকিং দেওয়া হচ্ছে। আর মশুর ডাল প্রতিটন ৪৫০ থেকে ৪৭০ ডলার। অন্যদিকে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে ছোলা প্রতিমণ ২১০০ থেকে ২৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমার কয়েক হাজার টন ছোলা দেশে পৌঁছেছে। আরো বিপুল পরিমাণ ছোলা পাইপ লাইনে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়েনি। ফলে রমজানে দেশের বাজারে দাম বাড়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। মশুর ডালেরও দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই।’
ডাল জাতীয় পণ্য আমদানিকারক পরিতোষ দে ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বসে আমরা দেশে পণ্যের চাহিদা ও কি পরিমাণ আমদানি হচ্ছে তার কোনো সঠিক তথ্য পাই না। ফলে এবার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে। কারণ বিগত সময়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে।’ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ১৫/২০ জন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ী রয়েছে। এবার অনেকেই ছোলা আমদানি করছে না।
এদিকে সয়াবিন তেলের বাজারও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সয়াবিন প্রতিমণ ২৯০০ টাকা ও পামওয়েল প্রতিমণ ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। জানতে চাইলে টি কে গ্রুপের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মার্কেটিং) তারেক আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশীয় বাজারে সয়াবিন কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। রমজানের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না বাড়লে সয়াবিনের দাম বাড়বে না।’
এদিকে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের দামবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারি ভাবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। টিসিবি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতিবারের ন্যায় ছোলা, সয়াবিন, মশুর ডাল ও চিনি রমজানে ন্যায্যমূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করা হবে।
