তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে স্থানীয় ক্যাবল অপারেটরদের বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোকে প্রথমদিকে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মন্ত্রী পরে টেলিভিশন চ্যানেল মালিক সমিতি (এটিসিও)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশিদ, সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ৭১ টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার ৪৪টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে লাইসেন্স দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০টি চ্যানেল সম্প্রচারে রয়েছে এবং এগুলো অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।
হাছান মাহমুদ আরো বলেন, বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কিছু সমস্যা রয়েছে। কতিপয় ব্যক্তি বিদেশি টিভি চ্যানেলে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ফলে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংকটে পড়ে। সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আগামী ১২ মে’র মধ্যে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণের এক বছর পূর্তি হবে। ১২ মে নাগাদ বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ তিন মাস বিনামূল্যে সেবা দেবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১২ মে নাগাদ তারা ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে গাজীপুরের সজীব ওয়াজেদ গ্রাউন্ড স্টেশনে নিয়ে যাবে, সেখান থেকে আপলিঙ্ক করবে এবং আবার ডাউনলিঙ্ক করবে সেজন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ সবার সঙ্গে আলোচনা করে (সেবার) দর নির্ধারণ করবে’ বলেন হাছান মাহমুদ।
