নগর সংস্কৃতি

শিল্পাচার্য স্মরণে মেলা শুরু চারুকলা প্রাঙ্গণে

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০১:০৩
বাংলাদেশের, বাঙালির শিল্পচর্চার চিরায়ত ধারাকে যিনি নতুন করে চিনিয়েছেন, নাগরিক সমাজে তুলে এনেছেন তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। বাংলাদেশের চারুকলা শিক্ষা প্রবর্তনের তিনিই কান্ডারি। এই শিল্পীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে জয়নুল মেলা। চারুকলার বকুলতলায় মঙ্গলবার সকালে শীতের পরশ গায়ে মেখে উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেন জয়নুল ভক্তানুরাগীরা।
 
ঢাক-ঢোলের বাদ্য বাজিয়ে তিন দিনের এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এসময় ছিলেন জয়নুলের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন, সন্তান প্রকৌশলী মঈনুল আবেদিন ও শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী আয়োজনে চারুকলার শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’, ‘আজি শুভ দিনে পিতারও ভবনে’ ও ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে সত্য-সুন্দরো’। এরপর ছিল পুরস্কার প্রদানের পালা। প্রতি বছরের মতো এবারও জয়নুল সম্মাননা দেয়া হয়েছে দেশের স্বনামধন্য শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের। শিল্পকলা ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল মতিন সরকার ও অধ্যাপক বুলবুল ওসমানকে জয়নুল সম্মাননা- ২০১৫ তুলে দেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আরেফিন সিদ্দিক ও  জয়নুল আবেদিনের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন। চারুকলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুশান্ত ঘোষকে বিশেষ সম্মাননা দেয় জয়নুল আবেদিনের পরিবার। পুরস্কারটি তুলে দেন জয়নুল আবেদিনের সন্তান মঈনুল অবেদিন।
 
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে  চারুকলা গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক মামুন কায়সার সম্পাদিত ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকলা প্রদর্শনীর-২০১৪’ গ্রন্থের  মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এবারের উত্সবের অন্যতম আকর্ষণ জয়নুল আবেদিনের সংগৃহীত মাটির পুতুলের প্রদর্শনী। আট দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাহানারা আবেদিন। উত্সবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ১৭টি স্টল অংশ নিয়েছে।  এগুলোর মধ্য রাজশাহীর পৃথক দুইটি স্টলে রয়েছে টেপাপুতুল ও সখের হাড়ি। রাঙামাটি থেকে আগত স্টলে রয়েছে তাদের নিজস্ব আঙ্গিকের বুনন শিল্প। মৌলভীবাজার থেকে আগত  দুটি স্টল সাজানো হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি দিয়ে। সোনারগাঁও থেকে আসা তিনটি স্টলে রয়েছে হাতপাখা, নকশী কাঁথা ও তামা-কাসায় নির্মিত নানা অলঙ্কার। এছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা, নওগাঁ, ঢাকা মহাখালী, নারিন্দা থেকে আগতরা তাদের নিজস্ব শিল্পকর্ম সাজিয়ে বসেছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে উত্সবে অংশ নিয়েছে। এর আগে   জয়নুল আবেদিনের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে জয়নুল আবেদিনের পরিবার, চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমী, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।