মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেনি ঢাবি কর্তৃপক্ষ :রিজভী

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৮

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ বের হতে পারেনি। ডাকসু নির্বাচনেও জাতীয় নির্বাচনের মতো রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে। এ নির্বাচনটিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। ২৮ বছর পরে হওয়া ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ঢাবির ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মোট ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে ১৮টি হলে। অথচ ছাত্রলীগ ছাড়া সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করার দাবি করেছিল। আরো দাবি করেছিল ভোটের সময় বাড়ানো ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবহারের। কিন্তু এ সব দাবি নাকচ করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ ঢাকতে মিডিয়াকে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।খালেদা জিয়ার চিকিত্সার বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘যে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) অন্য হাসপাতাল থেকে যন্ত্রপাতি ধার করে আনতে হয়, সেখানে কিভাবে সুচিকিত্সা সম্ভব। আওয়ামী লীগ নেতার চিকিত্সা করা সেখানে সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক আনার পরও রাষ্ট্রীয় খরচে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিদেশে পাঠাতে হয়। অথচ বেগম জিয়ার নিজ দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিজ খরচে চিকিত্সা করানোর সুযোগ নেই।’

রিজভী বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছেন যে খালেদা জিয়াকে সানগ্লাস পরা দেখলে মনে হয় না তিনি অসুস্থ। এমন কোনো কি ব্যক্তি আছেন যাদের চোখে অপারেশন হওয়ার পর সানগ্লাস পরেন না? চোখের ক্ষত না সারা পর্যন্ত রোদ, ধুলা ও পানি থেকে চোখকে নিরাপদ রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। খালেদা জিয়া সেটাই করছেন।’

তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যমন্ত্রীর কথাবার্তা শুনলে মনে হয় মন্ত্রিত্ব রক্ষার গ্যারান্টি পেতে লাগামহীন কথাবার্তায় তিনি আগের তথ্যমন্ত্রী ইনুর চেয়ে এক ধাপ উপরে থাকার চেষ্টা করছেন। সে জন্যই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দিনরাত অশোভন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছেন না। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মশকরা করতে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এ সময় খালেদা জিয়ার সুচিকিত্সা ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।