আসল পরীক্ষা শুরু হলো: মাশরাফি

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:৩৬
বলা হচ্ছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এক ক্রিকেট বিপ্লবের নেতা তিনি। ২০১৪ সাল জুড়ে হারতে থাকা বাংলাদেশ দলকে টানা জয়ের ধারায় নিয়ে এসেছেন। একটার পর একটা তাক লাগানো জয় ও সাফল্য। তবে মাশরাফি নিজে একদমই এই ম্যাজিককে নিজের কৃতিত্ব বলতে চান না। তিনি এই সাফল্য একই সাথে উপভোগ করছেন এবং সতর্ক প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগামী বছরের জন্য।স্বর্ণালি ২০১৫ সালকে ফিরে দেখে বছরটা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন-দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
 
 
বলা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট তার ইতিহাসের সেরা বছরটা কাটাল। পেছন ফিরে দেখলে আপনার মূল্যায়নটা কী?
 
শুধু ফলাফলের বিচার করলে তো অবশ্যই এটা অসাধারণ একটা বছর ছিল। আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছি। এ বছর ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়েছি। বিশ্বকাপে মোটামুটি ভালো একটা ফলাফল করেছি। ফলে এটা মানতেই হবে যে, দারুণ একটা বছর কাটিয়েছি আমরা। তবে ‘সবচেয়ে সফল’ ব্যাপারটা তো বলা কঠিন। কারণ সামনে আমাদের আরো ভালো করার সুযোগ সব সময়ই থাকছে। আর মনে রাখতে হবে, এই সাফল্য কিন্তু আমাদের আরো ভালো করার চাপও তৈরি করেছে।
 
বছর জুড়ে একটার পর একটা প্রাপ্তি ছিল। এর মধ্যে আমরা কি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাকে বছরের সবচেয়ে সোনালি মুহূর্ত বলতে পারি?
 
প্রতিটা সাফল্যই সোনালি মুহূর্ত। এমনকি আমি বলি, প্রতিটা ভালো পারফরম্যান্সই একই রকম সুন্দর। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে অবশ্যই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে জয়টাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলব। ওই ম্যাচে আমাদের জিততেই হতো। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এ রকম ডু-অর-ডাই ম্যাচে অমন পারফরম্যান্স করাটা সহজ ব্যাপার ছিল না।
 
২০১৪ সালের শেষ দিকে যখন দায়িত্ব নিলেন, এমন একটা বছর কল্পনা করতে পেরেছিলেন?
 
কল্পনা করা তো কঠিন। আমরা আশা করতে পারি। প্রতিটা ম্যাচ খেলতে নামার আগে আমরা জয়ের আশা করি। কিন্তু একসাথে বসে সামনের এক বছরের জন্য এমন কিছু কল্পনা করা কঠিন। আমিও এমন কল্পনা করিনি।
 
 
দলীয় সাফল্য, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বাইরে কোনো একটা ব্যাপারকে বেছে নিতে বললে কী বেছে নেবেন? আমাদের এই বছরে আসলে ক্রিকেটীয় অর্জন কী?
 
আত্মবিশ্বাস। যেমন আমরা এই বছরে প্রায় সবগুলো ম্যাচে তিন পেসার খেলানোর মতো বিশ্বাস পেয়েছি। গত বছরই ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপে প্রয়োজনও ছিল। কিন্তু দেশের মাটিতে তিনটি সিরিজেই তিন জন পেসার খেলানো বা ইন্ডিয়ার বিপক্ষে চার পেসার খেলানোটা তাত্পর্যপূর্ণ ছিল। আমাদের দেশের মাটিতে এমন সিদ্ধান্ত কেবল আত্মবিশ্বাস থেকেই আসতে পারে।
 
আপনি সব সময় পাঁচ বোলার, তিন পেসার খেলানোর সুপারিশ করেন। এটাকে কি তা হলে আমরা অধিনায়ক হিসেবে আপনার জয় ভাবব?
 
একদমই না। কোচ-ম্যানেজমেন্ট এবং সর্বোপরি বোলারদের কৃতিত্ব এটা। কোচ ও ম্যানেজমেন্ট প্রবলভাবে ব্যাপারটা সমর্থন করেছেন। তারা বোলারদের বিশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের এই কন্ডিশন কখনোই পেসারদের জন্য খুব উত্সাহব্যঞ্জক না। তারপরও বোলাররা যেভাবে নিজেদের সমর্থন করেছে, তারা যেভাবে করে দেখিয়েছে; সেটাই বড় ব্যাপার।
 
আমাদের পেসারদের এই উত্থানকেই কি নতুন বাংলাদেশের প্রতীক মনে করা যেতে পারে?
 
পেসারদের ওপর ভরসা তো রাখতেই হবে। পেসাররা আপনাকে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারবে। তবে তাই বলে আমরা আমাদের পরীক্ষিত শক্তিটাকে কিন্তু ভুলে যেতে পারি না। ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে গত বেশ কিছুকাল ধরে আমাদের মূল শক্তি বাঁহাতি স্পিন। এই বাঁহাতি স্পিনাররা কিন্তু আমাদের অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। বরং আমি চিন্তিত যে, গত কয়েক বছর আগেও আমাদের যেরকম অনেক বাঁহাতি স্পিনার ছিল, এখন কিন্তু সেটা হাতে গোনা হয়ে গেছে। আমি আসলে চাই এমন একটা অবস্থা থাকুক যে, চাইলে চার স্পিনারও খেলাতে পারবেন, চাইলে চার পেসারও খেলাতে পারবেন।
 
আবার দলীয় সাফল্যের ব্যাপারে আসি। জনমনে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশের এ বছরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে আপনার কোনো একটা ‘ম্যাজিক’ আছে। আপনি এই ধারণাটাকে কীভাবে দেখেন?
 
(হাসি)। এ রকম ধারণার আমি কোনো কারণ দেখি না। হ্যাঁ, ক্রিকেটে কখনো কখনো একজন মানুষ অনেক কিছু বদলে ফেলতে পারে। যদি সত্যিই তেমন কিছু হতো, তাও আমি জানি না, সেই কৃতিত্বটা এভাবে ম্যাজিক বলে মনে করার সুযোগ আদৌ আছে কি না। আর বাংলাদেশের ব্যাপারে আমি পরিষ্কার বলতে চাই, অধিনায়ক হিসেবে আমাকে বিশাল কিছু করতে হয়নি। প্রত্যেকে নিজের জায়গায় পারফরম করেছে, নিজের দায়িত্বটা বুঝেছে। সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের। তারা পেছন থেকে এই দলটাকে প্রতিদিন তৈরি করে দিয়েছেন।
 
২০১৫ তো আপনাদের ওপর প্রবল চাপও তৈরি করল। এই সাফল্যের কারণেই ২০১৬ সালে আপনাদের আরো ভালো করার চাপ থাকবে।
 
অবশ্যই। এটাই এখন আমাদের আসল চ্যালেঞ্জ। বলা যায়, এখন থেকে পরীক্ষার শুরু হলো। তবে মনে রাখতে হবে, ২০১৬ সালের প্রথম কয়েকটা মাস আমরা টি-টোয়েন্টিই বেশি খেলব। এই ফরম্যাটে আমরা তিন ফরম্যাটের মধ্যে এখনও সবচেয়ে দুর্বল। ফলে আমাদের ভালো করার দারুণ চেষ্টা থাকবে, তবে কাজটা সহজ হবে না।