ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষায়ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থাকতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫, ২৩:৪৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনায়ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের বিজয় আমাদের জন্য গর্বের। বাঙালি যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। এই বিজয়ের ইতিহাস পড়লে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠবে। আর আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। তাই তাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়াও প্রয়োজন।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার চলতি বছরের প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ও নির্বাচন বয়কটের সংস্কৃতি পরিহার করে দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অন্তত তারা (বিএনপি) এবার আগের মতো অগ্নিসংযোগ ও তাণ্ডব সৃষ্টির পথে যায়নি। তারা নির্বাচনের পথে এসেছে, তারা নির্বাচনমুখী হয়েছে। এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।
 
সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই ফলাফল হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এ সময়ে সচেতন হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ বিনষ্ট করার চেষ্টা করেনি।
 
বিদায়ী বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াত চক্রের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে জনগণ চলতি বছরের প্রথম তিন মাস ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক জীবন কাটিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত এ সময় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সময় শিশুরা স্কুলে যেতে পারেনি এবং ঘনঘন সময়সূচি (পরীক্ষার) পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা দিতে পারেনি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার ?সুযোগ সৃষ্টিতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষা প্রত্যেক ছেলে-মেয়েকেই নিতে হবে। সে সুযোগ আমরা করে দিচ্ছি। দারিদ্র্যের কারণে কেউ যেন ঝরে না পড়ে। এ সময় প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে কিছু পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
 
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের বর্বরতা-নৃশংসতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা দেশ গড়তে মনোনিবেশ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেন। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত গড়ে দিতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। অনুষ্ঠানে আট শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা। আর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী।
 
পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, পাসের হারও বেড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিশীলতা না থাকায় পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের পাঠ্য বই তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্য পুস্তক উত্সবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আগামীকাল উদযাপিত পাঠ্যবই উত্সব জনগণের জন্য নতুন বছরের উপহার।
 
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ‘উত্তরীয়’ পরিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হুমায়ুন খালিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র পাল এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
 
পৌর নির্বাচনে বিপুল বিজয়ে
 
প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রতিনিধি 
 
দলের সাক্ষাত্
 
সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর দলের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাত্ করে। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দিপু মনি, মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ.ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সায়ীদ আল মাহমুদ স্বপন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অসীম কুমার উকিল, ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ, ফরিদুন নাহার লাইলী, হাবিবুর রহমান সিরাজ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।
 
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভে ভূমিকা রাখার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রশংসা করেন।
 
ওয়ার্কিং কমিটির সভা আগামী ৯ জানুয়ারি
 
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির এক সভা আগামী ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।