একটি রাস্তা নির্মাণের চুক্তি বাতিল করায় গফরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর হামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেনকে ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান চোখ গুরুতরভাবে জখম হয়েছে বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি-নামা লংগাইর সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রায় ৫ কোটি ব্যায়ে নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড এলাকার ঠিকাদার মেসার্স জামান কনস্ট্রাকশন। ২০১৬ সালে চুক্তি করা এই কাজটি ৯ মাস সময় নিয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করা করার কথা ছিল। কাজটি নেওয়ার চুক্তি করা জামান কনস্ট্রাকশন গত তিন বছরে মাত্র ২৫ ভাগ কাজ করে একটি রানিং বিল উত্তোলন করে নানা অজুহাতে কাজটি ফেলে রাখে। এলজিইডির পক্ষ থেকে ৮/১০ বার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
রাস্তাটি দীর্ঘদিন মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ ছিল না। সর্বশেষ গত সপ্তাহে এলজিইডি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। এরপর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামান কনস্ট্রাকশনের মালিক জামান উপজেলা প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেনকে মোবাইল ফোনে গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা প্রকৌশলী ঢাকায় বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য গফরগাঁও থেকে তিস্তা ট্রেনে বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পরপরই রাত সোয়া আটটার দিকে ঠিকাদার জামানের একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর হামলা করে। তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে থেকে তাকে ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিত্সকরা বলেছেন, তার ডান চোখটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন রবিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জামান ঠিকাদারের লোকজন তাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা চালিয়েছিল। স্টেশনের যাত্রীদের সহযোগিতায় তিনি বেঁচে যান। কয়েকদিন ধরে জামান হত্যার জন্য ফোনে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে এ ব্যাপারে জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
