একটি স্বপ্ন পূরণের গল্প

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৯:০২

  তাওহীদ ইসলাম

 

মানুষ মানেই এক আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে বসবাস। কোন স্বপ্ন পূরণ হয় কোনটা পূরণ হয় না। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। আবার কিছু মানুষের নিজের জন্য কোন স্বপ্ন থাকে না, তার বা তাদের স্বপ্ন বা জীবনের লক্ষ্য হয় বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। তেমনি একজন হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী বিলকিস খানম। যিনি তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ ফলাফল ও  ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’।

বিলকিস বেড়ে উঠেছেন গোপালগঞ্জের সুলতান শাহী গ্রামে। বাবা মো. আবুল হোসেন মোল্লা যিনি ছিলেন পেশায় একজন পাট ব্যবসায়ী। মাতা তাসলিমা বেগম সামলেছেন একটি বড় যৌথ পরিবার। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার বাবার কেবল স্বাক্ষর দেয়ার জ্ঞানটুকু ছিলো। শুনতে অবাক শুনালেও তিনি তার শৈশবে বিদ্যুতের আলোতে পড়তে পারেননি। তার গ্রামটা বিদ্যুত্ সংযোগের আওতায় এসেছে বছর চারেক হলো। এরপরে তিনি প্রস্তুতি নিতে থাকেন মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কিন্তু তিনি তার সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়েও ব্যর্থ হলেন। তিনি মৃদু হেসে বললেন ‘আল্লাহ আমার জন্য যে সিদ্ধান্ত ঠিক করে রেখেছেন আমি তা পরিবর্তন করতে পারবো না। তিনি আমার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গোল্ড মেডেল পাওয়া নির্ধারণ করে রেখেছিলেন তাই হয়ত আমার মেডিকেলে পড়া হয়নি।

মেডিকেলে ব্যর্থ হওয়ার পরে আমি খুব ভেঙে পরেছিলাম। তারপরে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেই এবং ‘সি’ ইউনিটে অষ্টম স্থান অর্জন করি। তারপরে সেজো ভাইয়ের পরামর্শে আমার ঘুরে দাড়ানো সহজ হয়। উল্লেখ্য বি. ফার্ম অনার্সে তার ফলাফল সিজিপিএ ৩.৯২। যা জীববিজ্ঞান অনুষদে তার সেশনের সর্বোচ্চ ফলাফল। যে কারনেই তিনি ঐ সম্মানজনক পুরষ্কারে ভূষীত হন এবং বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যায়ন করছেন।

স্বর্ণপদকটা এনে যখন আমি আমার মায়ের গলায় পড়িয়ে দিয়েছিলাম আমার মায়ের দু’চোখ থেকে পানি ঝড়ে পরছিলো, ওটাই আমার স্বপ্ন পূরণ। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদেরকে মিশতে হবে সবার সাথে এবং মানুষ থেকে তার ভালো গুণটা নিতে হবে। মানুষের সাথে কথা বললে বিচিত্র জীবন সম্পর্কে জানা যায়, বাস্তবতা বুঝা যায়। আবার অনেকেই গরীব বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে তারা যেন হীনমন্যতায় না ভোগে এবং তারা যেন স্টাটাস মেইনটেইনের নামে বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগ করে দামী মোবাইল, ল্যাপটপের জন্য টাকা আদায় না করে। তাদের বুঝতে হবে এখন বিলাসিতায় ভাসার সময় নয়, জীবন গড়ে তোলার সময়।

এই সময়ে এসে সবারই কাউকে না কাউকে ভালো লাগতেই পারে এটা স্বাভাবিক, তবে সবকিছুর জন্য একটি সময় আছে। আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য নিজেকে সময় দিতে হবে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের কথা ভুলে যাওয়া যাবে না।