জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:৪০
জন্মদিনের অনুষ্ঠান বললে যে রকমের জাঁকজমক, আনুষ্ঠানিকতার কথা মনে আসে তেমন নয়। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের আয়োজনটি ছিল অনাড়ম্বর, ছিমছাম। তবে নিখাদ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রীতিতে উষ্ণ।
 
গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের ৬৫তম জন্মদিনে তার সুহূদ-শুভাকাঙ্ক্ষীরা করেছিলেন এ আয়োজন। উদ্দেশ্য, ‘অনন্যা’ পুরস্কার দেয়ার মাধ্যমে তিনি নারীদের যে সাহস দিয়েছেন সেই গল্প শোনা। আর ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণার মধ্যদিয়ে এই মহীয়সী নারীর সান্নিধ্যে খানিকটা সময় কাটানো।
 
নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পুরো অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে উঠতে সময় লাগেনি। এক বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখা তাসমিমা হোসেনকে নিয়ে মঞ্চে কথা হলো, কবিতা পাঠ হলো। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করলেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা।  
 
সুহূদদের ভালোবাসায় সিক্ত তাসমিমা হোসেন বলেন, আশির দশকে নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করাটা সহজ ছিলো না। সত্য বড় কঠিন জেনেই এই বন্ধুর পথটি বেছে নিয়েছি। তবে আমি মনে করি, অনন্যা হচ্ছে একটি নেটওয়ার্কিং। অনেক সংগঠনের সঙ্গে আমরা কাজ করি। এটার মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করা যায়। আসলে কাজ হচ্ছে এক ধরনের মেডিটেশন। 
 
তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন ইসলাম অনুশীলন করে যাচ্ছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। তবে জঙ্গিবাদের প্রতিবাদের সঙ্গে আমরা চলতে চাই, মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। হাতে হাত রেখে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াতে হবে।
 
তিনি আরো বলেন, কেবল কথা বললেই হবে না, অন্যের কথা শোনাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমরা অনন্যা দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। তবে এটা সবার জন্য খোলা। কত কিছু হয়ে গেছে, কত কিছু হয়ে যাবে, তবুও আমাদেরকে পথ চলতে হবে বলে জানান তাসমিমা হোসেন।
 
অনুষ্ঠানে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ইত্তেফাকের প্রকাশক তারিন হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কবি কাজী রোজী, সিডো কমিটির সাবেক চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সালমা খান, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রমুখ।
 
কবি কাজী রোজী বলেন, তাসমিমা হোসেন নারীদের জন্য যা করে যাচ্ছেন সেটার তুলনা নেই। তিনি আমার একজন বিশ্বস্ত বন্ধু। নারীদের সাহস দিয়েছেন, তার কাছ থেকে আমরা অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। 
 
অধ্যাপক সালমা খান বলেন, তাসমিমা হোসেন, যাকে আমি টিপটিপ হিসেবেই জানি। তার অনন্যা খুঁজে বের করার প্রবণতা, সৃজনশীলতা এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আজকে থেকে তিনি শীর্ষ গুণী নারী আবিষ্কারক।  
 
সালমা আলী বলেন, আজকে তিনি নারীদের সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন। পরের প্রজন্মের সবাই জানবে আমরা কেমন করে উঠে এসেছি। কাজের স্বীকৃতি পেলে ভালো লাগে। অনন্যা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে, সংঘবদ্ধ করেছে।
 
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, তাসমিমা হোসেনকে ভালোবাসি, তাই কিছু বলতে চাই না। তিনি কেবল নারীদের জন্য নয়, মানব সমাজের জন্য কাজ করেন। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই তো সেদিন ঢাকার বাইরে যাওয়ার আগে তাকে বলে যেতে পারেনি, ফোন বন্ধ ছিল। আমি কেঁদেছি, একাত্তরের পর এই প্রথম বোধহয় কাঁদলাম।
 
ডা. দীপু মনি বলেন, তাসমিমা হোসেন সম্পাদনা ও সেবামূলক কাজের পাশাপাশি স্বামীর রাজনীতির সঙ্গী ছিলেন। নিজে ছিলেন সংসদ সদস্য। তার এলাকার মানুষ তাকে অনেক ভালোবাসে এটা আমরা সবাই জানি। তার হাসিমাখা মুখ দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়।
 
ফুল দিয়ে তাসমিমা হোসেনকে শুভেচ্ছা জানান তার অনেক অনুরাগী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এফবিসিসিআইএর পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী তাসমিমা হোসেনের হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেন। শুভেচ্ছা জানান, সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার, উইম্যান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক, ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুর্শিদী, চিত্রশিল্পী গুলশান হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, উইক্যানের প্রতিনিধি জিনাত সুলতানা, মানবাধিকার কর্মী ফৌজিয়া আক্তার ইভা, ফটোসাংবাদিক পাভেল রহমান, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, চিত্রশিল্পী কনক চাপা চাকমা, চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, কবি রুবী রহমান, মনোয়ার হাকিম, ‘মাটি’র সভাপতি বাশার খান, লেখক নূরজাহান বোস, আলোকচিত্রী সাঈদা খানম, চিত্রশিল্পী প্রেমা আন্দালিব। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নাহিদ সুলতানা। অনুষ্ঠানে দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল, পাক্ষিক অনন্যাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শুভেচ্ছা জানায়।
 

কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব ও সুইডেন প্রবাসী আরিফুর রহমান তাসমিমা হোসেনের ক্যারিক্যাচার পাঠিয়েছেন। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে সুহূদদের নিয়ে কেক কাটেন তাসমিমা হোসেন। পরে নৃত্য পরিবেশন করেন সাধনা সংস্কৃতি প্রসার কেন্দ্রের শাম্মী আক্তার ও তানুন আহমেদী। এছাড়া মুন্নী ও তানিয়ার নৃত্য আলেখ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে।