বরিশাল অফিস ও বানারীপাড়া সংবাদদাতা
নদীর একুল ভাঙে ওকুল গড়ে এইতো নদীর খেলা- চিরন্তন এ সংগীতের ধারাবাহিকতায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বানারীপাড়ার জনপদ। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে নদী পাড়ের গ্রাম নলশ্রী, শিয়ালকাঠী, নাজিরপুর, জম্বদ্বীপ, মসজিদবাড়ী, দান্ডোয়াট, খোদাবখ্শা, খেজুরবাড়ী, চাউলাকঠী, কাজলাহার, কালির বাজার, ব্রাহ্মণকাঠী ও বাইশারী গ্রাম। অধিকাংশ বিলীন হয়েছে জিরাকাঠী, উত্তকুল, ভৈসর এবং সোনাহারের গ্রামগুলো। এ ছাড়া উজিরপুর উপজেলার দাশের হাট, শিকারপুর, ভবানীপুর, মিয়ারহাট, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার নান্দুহার, কুন্দিহার, ছারছিনা শরীফে পশ্চিমাংশ ইতোমধ্যে সন্ধ্যা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কৌড়িখাড়াসহ কাউখালী উপজেলার বেশ কিছু গ্রামের অসংখ্য বাড়ি ঘর, স্কুল, কলেজ, বাজার, মসজিদ, মন্দির, দোকান পাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইতোমধ্যে সন্ধ্যা গর্ভে হারিয়ে গেছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিলুপ্তির আশঙ্কায় রয়েছে সহস্রাধিক বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর। সন্ধ্যা তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিবেশীর বাড়িতে, আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় এবং আশপাশে জেগে ওঠা চরে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ছঁই তোলা নৌকায় জীবনের পসরা সাজিয়ে সপরিবারে সন্ধ্যার বুকে ভেসে জীবন-যাপন করছে। ঢাকা গিয়ে সদরঘাটের খেয়া পারাপার করে জীবন ও জীবিকা চালাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ভাঙনে বসতবাড়ি, চাষের জমি, মাছের পুকুর সব হারিয়ে এখন যাযাবরের ন্যায় জীবন যাপন করছে। ভাঙনকবলিত আশ্রয়হীন অসহায় এ মানুষগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে বানারীপাড়ায় দুটি আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু হয়েছিল। বর্তমানে একটি গুচ্ছগ্রাম ও একটি আশ্রায়ণ কেন্দ্রে ১২৩টি পরিবার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে। ভূমিহীন ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের প্রয়োজনের তুলনায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল।
অপরদিকে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। আরো কয়েক হাজার পরিবার তাদের ভিটেবাড়ি যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে সন্ধ্যা নদীগর্ভে । ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বিশাল আয়োজনে বেশ কয়েকবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও তা পরিদর্শন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
